সিরাজগঞ্জে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ’সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন’ বিভাগে অধ্যয়নরত ১৪ জন ছাত্রের চুল কামিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে অচ’লাবস্থা বিরাজ করছে। পদত্যাগ করা শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর পর আরো বেশ কিছু অভিযোগের জন্ম দিয়েছে। তিনি তার ঐ কলেজে শিক্ষকতা করা কালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের সাথে দূর্ব্যাব’হারও করেন বলে জানা গেছে। তিনি অকথ্য ভাষায় গা’লিগা/লাজ করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ’আমি তোমাকে এই চতুর্থ তলা হতে লাথি মেরে ফেলে দেব’, ’আমি তোর বাবার চাকরি খাব’, ’তুই ১০ বছরেও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে পারবি না’, ’আমি আমার বিভাগের গড’, ’পরীক্ষা দিয়ে যাও, আমি খাতা ছিঁড়ে ফেলে দিব।’ - শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনের বিরু’দ্ধে শিক্ষার্থীদের সাথে এই ধরনের অকথ্য ভাষায় কথা বলার অভিযোগ উঠেছে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display

অনেক শিক্ষার্থী এমনও অভিযোগ করেছেন যে, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক অশ্রাব্য ভাষায় শিক্ষার্থীদের অপ’মান করেছেন। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এমন অভি’যোগ করেছেন।

তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ফারাহ নাজ নিঝুম, রাসা, সোহাগ ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সুজন বলেন, ’ওই শিক্ষক আমাদের বাবা-মা এমনকি জন্মের পরিচয় তুলেও গা’/লি দেন। ব্যক্তিগত আ’/ক্র/মণ করে কথা বলেন। তার সিদ্ধান্তের প্র’তিবা’দ করলে তিনি পরীক্ষায় ফেল করানোর ভ’/য় দেখান।’

নাজমুল হাসান পাপন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ’ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বৈ’রাচা/রি আ’চরণ করেন। শিক্ষার্থীদের বাবার চাকরি খেয়ে ফেলারও হু’/ম’কি দেন তিনি। ওনার কাছে কেউ নি’রাপদ নয়। অপ’মান সইতে না পেরে তুহিন নামে এক শিক্ষার্থী আ’ত্মহ’/’ত্যার চেষ্টা করেছে। এ কারণেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের অপসা’রণ দা’বি করছে। দীর্ঘদিনের নি’/র্যা’/তনে ছাত্ররা ফুঁ’/সে ওঠেছে।’

আবিদ হাসান নামে এক ছাত্র বলেন, ’স্টুডেন্টদের তিনি সন্তানের চোখে দেখেন না। আমাদের ওপর তার কর্তৃত্ব দেখান। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা আমাদের মেনে নিতে হবে। তার সিদ্ধান্তগুলো সব সময়ই অ’মা’/নবিক হয়।’

শিক্ষার্থীদের চুল কে’/টে দেওয়া প্রসঙ্গে আবিদ বলেন, ’শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা শুরু হয়। তিনি পরীক্ষার তিন/চারদিন আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে রুটিন দিয়েছেন, যেখানে প্রতিদিনই পরীক্ষা রয়েছে। একটি বছরের ফাইনাল পরীক্ষা প্রতিদিন দিতে হবে- এমন অমা’/ন’বিক সিদ্ধান্ত দেন তিনি। ওই রুটিন পরিবর্তনের দাবিতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ওই শিক্ষিকা স্মারকলিপি দিতে আসা শিক্ষার্থীদের নাম সংগ্রহ করেন। শনিবার পরীক্ষার হলে গিয়ে পুরো চার ঘণ্টা তিনি সে শিক্ষার্থীদের মেন্টালি ট’/র্চার করেছেন। এ ব্যাপারটি নিয়ে পরদিন আবার তারা কথা বলতে চাইলে শিক্ষার্থীদের চুল কে’টে দেন তিনি। যারা এ স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিল, ঠিক তাদেরই চুল কা’টা হয়।’

সুজন নামে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র বলেন, ’ক্লাসের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের আ’/ক্র’/মণ করে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি নানা রকম কথা বলেন।’ আ’/ন্দো’/লনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র শামীম হোসেন ও আবু জাফর বলেন, ’ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার যোগ্য নন। মানসিক বি’/কা’রগ্রস্থ ও উ’/গ্রমে’জাজি এ শিক্ষকের কাছে কেউই নিরা’পদ নয়।’

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক রিফাত রহমান শাকিল বলেন, ’ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড মেনে চলার ব্যাপারে অত্যন্ত ক’ঠো/র। তবে খা’রাপ আচরণের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা কখনো কোনো অভি’যোগ দেয়নি। আমাদের নজরে পড়লেও সেটাকে গুরুত্ব দেইনি। কারণ ভেবেছি, হয় তো বা চুপি’সারে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভালো আচরণও তিনি করবেন।’

রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, ’চুল কে’টে দেওয়া ছাড়াও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আ’/ক্রম’/ণ ও খা’রাপ আচরণের একাধিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে শুধু একটি বিভাগের অভিযোগ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগেই এমন অভিযোগ রয়েছে। জুতোর শব্দ হলেও তিনি শিক্ষার্থীদের শা’সন করেন। সব অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। দু-একদিনের মধ্যেই এ বিষয়গুলো জানা যাবে।’

ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। কিন্তু, তিনি একাধিক মিডিয়া সাক্ষাৎকারে চুল কা’টার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। "আমি একটু রা’গী," তিনি বলেন। আমি পরীক্ষার জন্য ছাত্রদের মাঝে মাধ্যে তি’রস্কা/র করে থাকি।

আব্দুল লতিফ যিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অতিরিক্ত কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন তিনি বলেন, "রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন পদত্যাগ করেছেন তার উপর অর্পিত তিনটি দায়িত্ব থেকে। তিনি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর এবং সিন্ডিকেট সদস্য এই তিনটি পদ হতে লিখিতভাবেই পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে পদত্যাগ করেছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করার জন্য লায়লা ফেরদৌস হিমেল যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তার নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খবর বাংলানিউজের।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display