দেশের বৃহত্তম শিল্পনগরী সোনাভানের শহর টঙ্গী। শ্রমিক অধ্যুষিত এ এলাকায় প্রায় ১১ লাখ লোকের বসবাস। আর এই ১১ লাখ লোকের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য রয়েছে একটি মাত্র সরকারি সেবাদান কেন্দ্র শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল।কিন্তু এই হাসপাতাল নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। অনিয়ম, দুর্নীতি, দালালদের দৌরাত্ম আর দুর্বল চিকিৎসা সেবা নিয়ে সমালাচনার মুখে থাকা হাসপাতাল নতুন করে নিন্দিত হয়েছে বিয়ের আয়োজন নিয়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়,২৫০ শয্যা হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০০ জন। এছাড়া ডেঙ্গু সেলে আরো ১৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের বাবুর্চি আজগর আলীর মেয়ে সুমির গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হাসপাতালটির নতুন ভবনের সামনে তৈরি করা হয় বিয়ের গেট।

হাসপাতালের ৩য় তলায় হলুদের আয়োজন করা হয়। পাশেই ব্যবস্থা করা হয়েছে রান্নার আয়োজন। হাসপাতালের পুরাতন ভবনের নীচ তলার একটি কক্ষে মুরগী রাখা হয়েছে। একটি কক্ষে পিয়াজ, মরিচ ও মসলা বাটার কাজ চলছে। রান্নার জন্য ১০-১২ টি ডেগও রয়েছে। হাসপাতালের বিয়ের আয়োজনে রোগীরা যেমন বিরক্ত হচ্ছেন তেমনি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানটিতে উচ্চ শব্দে বাজানো হয় গান। পরে স্থানীয়রা টঙ্গী পূর্ব থানাকে অবহিত করলে থানা পুলিশের একটি টিম বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করে দেয়।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একাধিক রোগীর স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে উচ্চ শব্দে গান বাজাতে শুরু করে এবং রান্না করা হলে ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে হাসপাতালটির বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড(কক্ষ)। তবে এ অবস্থা চলতে থাকলে এখানে চিকিৎসা সেবা নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার হাসপাতালের বাবুর্চি আজগর আলী জানান, হলুদের অনুষ্ঠান করার জন্য কোনো অনুমতি নেননি তবে বৌভাতের অনুষ্ঠান হাসপাতালের নিচতলায় করার জন্য মৌখিকভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ কমরউদ্দিন অনুমতি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ কমরউদ্দিন বলেন, হাসপাতালে বিয়ের কোন অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য কোনো অনুমতি আমি অনুুুমতি দেইনি। যারা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে হাসপাতালের পরিচালক কমর উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে হাসপাতালে মোটরসাইকেল পার্কিং করার জন্য ১৫০ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক কমর উদ্দিন বলেন, আলী আজগর হাসপাতালের একজন স্টাফ। তাই তার মেয়ের বিয়ের আয়োজনের অনুমতি দিয়েছি। তাতে অসুবিধা কি আছে?

ডেঙ্গু ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন সালমা আক্তার বলেন, এটি হাসপাতাল নাকি কমিউনিটি সেন্টার। একটি সরকারি হাসপাতালের ভেতরে বিয়ের আয়োজন করে গান বাজনা হচ্ছে। আর রোগীরা পাশের ওয়ার্ডে কাতরাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী বলেন, বিকাল থেকে হাসপাতালে গান বাজানো হচ্ছে। এখন হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।