জেলা প্রশাসনের খাস কামারায় একটি ভিডিও কেলেঙ্কারির ঘটনায় জামালপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ কবীরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে সরকার। এদিকে গোপনে অফিস করছেন জামালপুরে ডিসির সাথে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া অফিস সহকারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা।
জানা যায়, সাধনা ফের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ৫ দিনের ছুটির আবেদন করেছেন। যদিও নবাগত জেলা প্রশাসক মো: এনামুল হক তার ছুটি নামঞ্জুর করেন। এর আগে ৭ আগস্ট ৩ দিনের ছুটির আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়।শুধু তাই নয় সাধনা বদলি চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদনও করেছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া গোপনে বোরখা পরে মুখে নেকাব লাগিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন সাধনা। প্রতিদিন পৌনে ৯টায় রিকশাযোগে ডিসি অফিস প্রাঙ্গনে নামেন সাধনা। সবার অগোচরে সিঁড়ি বেয়ে জেলা প্রশাসকের গোপনীয় শাখার প্রটোকল অফিসার মো: সাখাওয়াত হোসেনের কাছে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে ৫ মিনিট অবস্থান করে দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করেন তিনি। ডিসি আহমেদ কবীর ও সানজিদা ইয়াসমিন সাধনার যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাধনার ডিসি অফিসে যাতায়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জামালপুরের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।

এ ব্যপারে জামালপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক মো: এনামুল হক বলেন, সাধনা বদলীর আবেদন করেছে, সেটা তদন্ত কমিটি দেখবে। যেহেতু চাকরি থেকে বাদ পড়েনি, এখনো কর্মরত রয়েছে, তাই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে চলে যাচ্ছে। তদন্তের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। সঠিক তদন্তে উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ২৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার ডিসির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ৫ সদস্যের এই তদন্ত কমিটির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় ৮ সেপ্টেম্বর রোববার থেকে আরো ১০ দিনের তদন্তের সময় বাড়ানো হয়েছে।

তদন্তের সময় বাড়ানো নিয়ে জামালপুরের মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে কানাঘুষা। তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করে ডিসিকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জামালপুরের মানুষ।