যে চিকিৎসকরা ঈশ্বরের অন্য রূপ হিসেবে বিবেচিত হোন কখনো কখনো , আবার দায়িত্ব অবহেলার কারনে ভুল চিকিৎসায় সেই চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত মানুষগুলো নিগৃত হোন। তবে রোগীর মৃত্যু মানেই ভুল চিকিৎসা বা কর্তব্যে অবহেলা নয় এমনটা সবসময় সত্যি তাও নয় ।
তবে কখনো কখনো এমন এমন ঘটনা ঘটে যা স্তম্ভিত করে দেয় পুরো দেশকে। তেমনি ঘটনার স্বীকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী মরিয়ম সুলতানা মুন্নি ।


ঘটনা গত ২০ মের , স্হান গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল।

পিত্তথলির জমে থাকা পাথর অপারেশন করতে গিয়েই ঘটনার সূত্রপাত। মামুলি এই অপারেশনের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি হন। পরেরদিন ২১ মে তার অস্ত্রোপচার করার কথা ছিলো। এদিন সকালে ওই বিভাগের নার্স শাহানাজ পারভীন ’ভুল করে’ তাকে চেতনানাশক ইনজেকশন দেন। ভুল ইনজেকশন পুশ করলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন মরিয়ম।


মুন্নির জ্ঞান হারানোর বিষয়টি জানার পরও কর্তব্যরত ডাক্তার তপন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ স্বজনদের। অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপ হতে থাকলে মুন্নিকে তড়িৎ খুলনার শেখ আবু নাসের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

সেখানে মুন্নির অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে একদিন পর কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে ২২ মে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে অবস্থার আরো অবনতি হলে গত ১৮ জুলাই ঢাকাস্থ একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়। এরপর অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় চিকিৎসকের নির্দেশে গত ৯ আগস্ট তার গোপালগঞ্জস্থ বাড়ীতে স্থানান্তর করা হয়। ছয় মাস পার হলেও মুন্নির জ্ঞান ফেরাতে পারেননি ডাক্তাররা।

এ ব্যাপারে মুন্নির ভাই মোঃ রুবেল বলেন, এরই মধ্যে মুন্নির চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তার সুস্থতার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু তার অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে।


এদিকে এ ঘটনায় গোপালগঞ্জের জেনারেল হাসপাতালের ডাঃ তপন, নার্স শাহনাজ ও কোহেলীকাকে আসামী করে সদর থানায় মামলা করা হলেও ইতিমধ্যে আসামীরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন ।