দেশের অন্যতম বাণিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জ এখন করোনাভইরাস হটস্পট হিসেবে পরিচিত। কেননা সেখানে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত সারি দীর্ঘ হচ্ছে। যতই নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে যততই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগী। আর সব থেকে মরনঘাতী এ ভাইরাসের কবলে পড়ছে অসহায় গরীব মানুষগুলো। কিন্তু এ অবস্থায় তাদের কথা না ভেবে নিজের স্বার্থে কিছু অসাধু নিতাকর্মীরা শত শত চালের বস্তা মজুদ করে যাচ্ছে। অথচ তাদের উচিত ছিল এই দূর্দিনে তাদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

জানা যায়, এবার রায়ণগঞ্জের বন্দরে এক যুবলীগ নেতার গুদাম থেকে মজুদ করা ১২শ’ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুল্কা সরকার বন্দর থানা পুলিশ নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে উপজেলার মদনপুর কেওডালা হায়দার নিট কম্পোজিটের একটি গোডাউনে ১২শ’ বস্তা চাল মজুদ নিশ্চিত হয়ে সেটি সীলগালা করে দেন ইউএনও।

তবে চালগুলো ত্রাণ দেবার জন্য মজুদ রাখা হয়েছে বলে ওই যুবলীগ নেতার পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও সেটি সরকারি নাকি ব্যক্তিগত সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ইউএনও শুক্লা সরকার।

অপরদিকে চালের মালিক দাবিদার মদনপুর যুবগলীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ভূঁইয়া এসব চালের বৈধ কোনো কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি। ফলে গোডাউনটি সীলগালা করে দেন ইউএনও এবং পরদিন সকালে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলে তা মুক্ত করে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


বন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, চাল মজুদের বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে সেখানে অভিযানে যান। পরে গুদামে ১২শ’ বস্তা চাল মজুদ পেয়ে এর মালিক যুবলীগ নেতা জাবেদ ভূঁইয়ার কাছে চালের কাগজপত্র দেখতে চান ইউএনও। কিন্তু তিনি কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাই ইউএনও চালের গুদামটি সীলগালা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বন্দির উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, গোপন সূত্রের মাধ্যমে খবর পেয়ে গুদামটিতে অভিযান চালাই। সব মিলিয়ে ১২শ’ বস্তা চাল ছিল সেখানে।

তিনি বলেন, গুদামের লোকজন দাবি করেছে এই চাল ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ দেয়ার উদ্দেশ্যে তারা মজুদ করেছে। তবে মালিকের সাথে ফোনে কথা বললে তিনিও একই দাবি করেছেন।


এ সময়ে তিনি আরও জানান, যেহেতু তারা এ চালগুলো সরকারি নাকি ব্যক্তিগত এ বিষয়ে নিশ্চিত নন, সেহেতু চালাগুলোকে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। তবে কাল সকালের মধ্যে তারা যদি এ চালের বৈধ কোনো কাগজ দেখাতে পারে তাহলে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারি বিধি মোতাবেক তারা ত্রাণ হিসেবে দিবে। তবে এ চালের কোনো বৈধ কোনো কাগজ দেখাতে না পারলে চালের মালিকের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবেও বলেও জানান। কেনান দেশে এ পরিস্থিতিতে একজন নেতা হয়ে চাল গুদামজাত করা অন্যায়।


সূত্র: যুগান্তর

আরো পড়ুন

Error: No articles to display