অনন্ত জলিল একজন প্রখ্যাত অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক এবং ব্যবসায়ী যিনি ঢালিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ২০১০ সালে "খোজ: দ্য সার্চ" চলচ্চিত্র দিয়ে। জনপ্রিয় এই নায়ক প্রথমে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি তার ৫০০ জন করোনার কবলে পড়া ভক্তকে ১০ লাখ টাকা দিবেন যা দিতে চেয়েছিলেন তার জাকাত ফান্ড হতে। কিন্তু তার ভক্ত অনুরাগীদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে করেছিলেন ২৫ লাখ টাকায়।
ঢাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করার পরও চাহিদা অনুয়ায়ী সবাইকে সাহায্য করতে না পারায় ক্ষমা চেয়েছেন এই অভিনেতা।

সম্প্রতি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে অনন্ত জলিল লিখেছেন, ’আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা এবং আজকে ১১ হাজার (+) অ্যাপ্লিকেশন দেখার পরে আমি ২০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছি। এ যাবৎ আমার কাছে ১৪ হাজার (+) অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে। আমি এই ২৫ লাখ টাকা দিয়ে ১ হাজার ২৫০ জনকে ২০০০ টাকা করে পাঠাতে পারবো।’

অনন্ত জলিল আরও বলেন, ’আমি মন থেকে চাইছি যে যতজনই আমাকে অ্যাপ্লিকেশন করেছেন, তাদের সবাইকেই আমি সাহায্য করি। কিন্তু এই মুহূর্তে তা আমার সামর্থ্যর বাইরে। আপনারা সবাই জানেন যে আমি শুধু গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। আমার দ্বিতীয় কোনো ইনকাম সোর্স নেই। বিগত দুই মাস ধরে সারা বিশ্বের করোনার মহামারিতে অনেক শিপমেন্ট ক্যান্সেল হয়েছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হয়েছে। আমার জায়গা থেকে নিঃস্বার্থভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি মানুষকে সহযোগিতা করার। তাই আপনারা আমাকে মন থেকে ক্ষমা করে দেবেন, আমি সত্যিই অনেক কষ্ট পাচ্ছি আপনাদের সবাইকে সহযোগিতা করতে না পারার জন্য।’

অনন্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে একটি নতুন মাত্রা তৈরি করেছেন এবং তিনি এখন ইন্ডাস্ট্রির একজন শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা। তিনি ১৯৯৯ সালে ব্যবসায়ী হিসাবে পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশের রেডিমেড গার্মেন্ট খাতে তার অবদানের জন্য ২০১৪ সালে তাকে সিআইপি (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছিল। তবে অনন্ত চলচ্চিত্র জগতের সাথে জড়িত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং একটি প্রযোজনা সংস্থা ’মনসন’ ফিল্মস চালু করেন। তিনি একটি টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী সংস্থা, গ্রামীণফোনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। অনন্ত দেশে জনহিতকর কর্মকাণ্ডের জন্য বহুল পরিচিত।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display