বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের এমন ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে পড়ে অবশেষে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট মো. জাফর ইকবাল খান। এ সময়ে তিনি একটি অভিযোগ দায়ের করে জানান, তিনি ঘটনার সময়ে কোনো প্রকার বুয়েট প্রশাসনের সহযোগিতা পাননি।
আজ বুধবার (০৯ অক্টোবর) বেলা পৌনে ৩টার দিকে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন মো. জাফর ইকবাল খান। আজ সকালে উপাচার্যকে না পাওয়া তার কার্যালয়ে এবং রেজিস্ট্রার বরারব পদত্যাগ পত্র জমা দেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে আবরার হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান জানান, আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে পদত্যাগে রাজি আছেন শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট।

এর মধ্যে আজকে শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের ঘোষণা আসল।

গত রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

গত সোমবার (০৭ অক্টোবর) আবরারের এমন ঘটনার প্রতিবাদের দাবিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ক্যাম্পাস দিনভরই উত্তপ্ত ছিল। উক্ত ঐ দিন শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট মো. জাফর ইকবালকে দুপুর থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। এ সময়ে উক্ত বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থীরা দাবি জানায় তারা রোববার রাতের ফুটেজ দেখানোর এবং দোষী ব্যক্তিদের নাম তাদের কাছে প্রকাশ করার।