রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে টর্চার সেল ও চোরাই গাড়ি রাখার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় প্রতিবাদ করায় শিক্ষকদের মারধরসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুন্সি কামরুজ্জামান কাজলকে হত্যার হুমকি দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা হলেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ ফরিদুজ্জামান বলেন,  দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা শিমুল, দেওয়ান আলীমউদ্দিন শিশির ও মাসুদ রানাসহ তার সহযোগীরা শিক্ষকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিদ্যালয়ের মাঠ ও ক্লাসরুমগুলো টর্চারসেল হিসেবে ব্যবহার  করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা কোনো কথা বলতে পারেন না।
সবশেষ গত ২২ এপ্রিল দুপুরে শিমুলসহ তার সন্ত্রাসীবাহিনী বিদ্যালয়ের অফিস রুমে প্রবেশ করে কোনো কথা না বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন ও রুহুল আমিনকে বেধড়ক মারধর করেন।
এ ঘটনায় রমনা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত আমার শিক্ষকরা ভয় নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। না জানি আজকে কে লাঞ্ছিত হবেন।
অধ্যক্ষ শেখ ফরিদুজ্জামান আরও বলেন, বিদ্যালয়টি আমাদের কিন্তু সেখানে কর্তৃপক্ষের কোনো কর্তৃত্ব নেই। সন্ত্রাসীরা পুরো বিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে রেখে আলাদা কন্ট্রোল রুমে বসে নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্লাস শেষে ফেরার সময় তাদের মন মতো রুম খুলে রাখতে হয়। সন্ধ্যার পর নারী ও মাদকসহ বাইরের লোকদের নিয়ে ক্লাসরুমে প্রবেশ করেন তারা। এ ছাড়া চোরাই গাড়ি, মোটরসাইকেল রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের মাঠ। আর কাউকে অপহরণ করলে তাকে রাখা হচ্ছে ক্লাসরুমে।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুন্সি কামরুজ্জামান কাজল বলেন, আমি এই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান।  যখন আমার শিক্ষকদের কেউ মারবে তখন আমার দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু আমি প্রতিবাদ করাই ২৩ এপ্রিল শিমুল , শিশির , মাসুদরা  আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি যদি শিক্ষকদের উস্কানি দেন তাহলে দুই সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে মেরে ফেলা হবে।  পরে আমি রমনা থানায় একটি জিডি করি।
এদের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে কাজল বলেন, এরা সবাই সরকারি দলের লোক। এরা সবাই যুবলীদের সদস্য। এদের মধ্যে  মাসুদ ৩টি এবং শিমুল ২টি হত্যা মামলার আসামি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রাজা বলেন,  অভিযুক্ত মাসুদ ১৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নানা  অভিযোগ উঠার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর শিশির ও শিমুল মাসুদের সহযোগী ছিলেন। এই ঘটনায় আর কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
এ ব্যাপারে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মইনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে দেওয়ান আলীম উদ্দিন শিশির ও গোলাম মোস্তফা শিমুলের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।