সন্তানের ভালো ফলাফল হলে পিতামাতা মিষ্টি মুখ করায়। এমনটাই শুনে এসেছেন দিনমজুর বাবা হারুন মাদবর। তার মেয়ে কাকলী আক্তার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে। আশে পাশে গ্রামগুলোর ভেতর তার মেয়ে কাকলীই সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট করেছে। কিন্তু অভাব এমনই যন্ত্রণায় ফেলেছে হারুনকে যে, এই খুশির দিনে মিষ্টি কেনার পয়সা তার পকেটে নেই।

অতঃপর মসজিদের মিলাদ থেকে পাওয়া একটা জিলেপি দিয়েই মিষ্টি মুখ করানো হলো মেয়েকে!

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর এলাকায় একটি ছোট ভাঙ্গা টিনের ঘরে বসবাস করেন কাকলী ও তার পরিবার। আজীবন অভাবের সাথে লড়াই করে বেড়ে ওঠা এই অদম্য মেধাবী সংগ্রামী মুখ গুলোও কখনো মলিন হয়ে ওঠে দুঃখের যন্ত্রনায়। সর্বোচ্চ খুশির দিনটিতেও কাকলীর চোখে পানি। নাহ, আনন্দ অশ্রু না। এই অশ্রু ফোটা এসেছে অভাবের দুঃখে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কষ্টে। সংগ্রাম করে মাধ্যমিক তো পার হলো ভালো ফলাফল করেই কিন্তু উচ্চ শিক্ষার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কষ্টে কাঁদছে কাকলী।

ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পায় কাকলী। আশেপাশে গ্রামগুলোর মধ্যে কাকলীই একমাত্র জিপিএ ৫ পেয়েছে। অথচ টাকার অভাবে বই কিনতে পারেনি এই হতভাগা শিক্ষার্থী।

কাকলীর দিনমজুর বাবার পক্ষে সন্তানের লেখা পড়ার ব্যয় বহন করা সম্ভব না। কোনোভাবে দিন পার করে দিচ্ছে তার জীবন সংগ্রাম করে। কিন্তু পড়াশুনায় মনযোগী কাকলী অন্যদের সহায়তায় কোনো রকম লেখা পড়া করে যাচ্ছিলো। এসএসসি পরীক্ষাতেও সে জিপিএ ৫ পায়। পাচ্চর বালিকা বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের সহায়তায় ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজে ভর্তি হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ তার বেতনসহ যাবতীয় খরচ মওকুফ করে দেয়। কিন্ত এরপরও পড়াশুনা চালিয়ে যেতে খুব কষ্ট করতে হয়েছে তাকে।

পরিবারে ৫ ভাইবোনসহ মোট ৭ সদস্য। খাবার জোগার করতেই হিমশিম খায় বাবা হারুন মাতবর ও মা তসলিমা মাতবরকে। তাই মেয়েকে পড়ার কোনো খরচ দিতে পারেন না তারা। টিউশনি করিয়ে বইখাতা কিনতে হতো কাকলীকে। কিন্তু তাতেও যে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। টাকার অভাবে এইচএসসিতে সব বইও কিনতে পারেনি এই শিক্ষার্থী। ৪টি বই কিনেছে নিজে। বাকি দুটো বই মানুষের কাছ থেকে ধার করে এনে পড়েছে।

পরিবারের অভাবের কথা ও সন্তানের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে কাকলীর মা তাসলিমা বেগম বলেন, ’পরিবারের খাবার জুটানোই কষ্ট। পড়ার খরচ দেয়ার সামর্থ নাই। কাকলী নিজের চেষ্টাই এই পর্যন্ত আইছে।’

ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ’কাকলী আক্তার অদম্য মেধাবী। ওর পাশে আমরা শুরু থেকেই ছিলাম। সবাই ওর জন্য এগিয়ে আসলে ও অনেক এগিয়ে যাবে।’

ছবি: সংগৃহীত