রাজধানী ঢাকার সঙ্গে চার বিভাগকে বুলেট ট্রেনে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও সাতটি নতুন এয়ারক্র্যাফট কেনা হবে বলেও জানান তিনি।
দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও অর্জনে অনন্য-অসাধারণ অবদানের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাজধানীর সঙ্গে আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-দিনাজপুর, ঢাকা-বরিশালের সেই পায়রাবন্দরসহ সেখানে বুলেট ট্রেন চালু করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করবো।
মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন, অস্ট্রেলিয়ায় ’গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ভারতে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি লাভসহ নানা অর্জনের জন্য শনিবার (২১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
জনগণ নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই দেশ উন্নত হচ্ছে
রেলের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, রেল সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিলো, সেজন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করে আমরা রেলের উন্নয়ন করে যাচ্ছি।
 
আরও সাতটি বিমান কেনা হবে
আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকারের সফলতা ও আগামীতে আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’আমাদের বিমানবহর ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিলো। ইতোমধ্যে আমরা কিছু নতুন বিমান পেয়েছি। আরও সাতটি বিমান আমরা কিনবো। যা আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে।’
 
তিনি বলেন, সেইসঙ্গে সৈয়দপুর বিমানবন্দর হবে আঞ্চলিক বিমানবন্দর। আমরা সৈয়দপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল প্রতিটি বিমানবন্দরকে আমরা উন্নত করবো। যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয় সে ব্যবস্থা করবো।
 
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রথমবার যখন ক্ষমতায় আসি তখন চট্টগ্রাম ও সিলেট এ দু’টি বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করে গিয়েছিলাম।
 
সড়ক যোগাযোগে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আজ প্রায় সমস্ত বাংলাদেশ আমরা সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি।
 
তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেন, ঢাকা-সিলেট চারলেনের কাজ শুরু হবে, ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন এবং আমরা পায়রাবন্দর পর্যন্ত চারলেন করে সমস্ত বাংলাদেশ, উত্তরবঙ্গকে ভবিষ্যতে চারলেনে উন্নীত করে যোগাযোগ যাতে তড়িৎ গতিতে হয় সে ব্যবস্থা করবো।
 
নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ’আমাদের নৌ পথগুলো আমরা সচল করে যাচ্ছি। আগের মতো সব নদী ড্রেজিং করে আমাদের প্রকৃতিকে রক্ষা করা, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা এবং সেইসঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে ব্যাপক কর্মসূচি রয়েছে আমরা তা বাস্তবায়ন করবো।’
 
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশকে কিভাবে আগামীতে আরও উন্নত করবো, সেই পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
 
তিনি বলেন, আমরা খাদ্য নিরাপত্তা দিয়েছি। এখন পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
 
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন খাত, বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নে সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
 
সংবর্ধনার শুরুতে পরিবেশন করা হয় জাঁকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বেলা সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তিনি অতিথি মঞ্চে আসন নিলে অভ্যর্থনা সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় ও দলীয় পতাকা নেড়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়।
মূল মঞ্চে আসন নেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিতে আয়োজিত সমাবেশে সকাল থেকেই নামে জনতার ঢল। গায়ে লাল টি-শার্ট, মাথায় সবুজ ক্যাপ, হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে উদ্যানের সবুজ চত্বর থেকে শুরু করে শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর ও আশপাশের এলাকায় জনতার স্রোত নামে। 
নৌকার প্রতিকৃতি নিয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, নেচে-গেয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল, ট্রাক-পিকআপ ভ্যানে চেপে জনসভায় আসেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। 
সূত্র: বাংলানিউজ২৪