নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির মরদেহের জানাযা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় এস এম মাহমুদুর রহমান নামে এক মরদেহের কফিনে তার পাসপোর্ট নম্বর ভুল আসায় লাশ শনাক্তকরণে অসুবিধা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয় লাশ নিতে আসা বৃদ্ধ বাবা।
এসময় তিনি বিলাপ করে লাশ হস্তান্তর করা সেনা সদস্যদের বলেন, আমার বাবা(ছেলে) মারা গেছে এখন লাশ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। আপনাদের ছেলে যদি মারা যেতো। সন্তান হারিয়ে বৃদ্ধ বাবার এই বিলাপ যেন নিস্তব্ধ করে দেয় পুরো আর্মি স্টেডিয়াম।
জানা গেছে, একই ব্যক্তির পাসপোর্ট নম্বর দুটি কফিনে গায়ে লেখা থাকার কারণে এই সমস্যা হয়। তবে শেষে সেনা সদস্যরা বিষয়টি সমাধান করেন।
এর আগে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাযা শেষে ফুল দিয়ে মরদেহগুলোর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধা জানানোর পর সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পরে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর শুরু হয়।
এর আগে সোমবার বাংলাদেশ সময় আড়াইটার দিকে নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে মরদেহবাহী বিমানটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে মরদেহবাহী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি কার্গো বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিহতদের মরদেহ বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন।
গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২১১। এতে নিহত হন ৪৯ জন। তাদের মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি। এদের মধ্যে শনাক্ত করে ঢাকায় আনা হয়েছে এই ২৩ জনের মরদেহ।
যাদের মরদেহ আনা হয়েছে- আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল, সানজিদা ও নুরুজ্জামান।
শনাক্ত না হওয়ায় আনা হয়নি পিয়াস রায়, নজরুল ইসলাম ও আলিফুজ্জামানের মরদেহ।