নারীদের সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতা প্রদানের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের যে অবদান ও ভূমিকা রয়েছে সেটা নি:সন্দেহে অনস্বীকার্য। অনেক নেতিবাচক বিষয় নিয়ে আলোচনার পরেও, এটা স্বীকার করতেই হবে যে, নারীরা আজ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজ করছে, যদিও বিপুল সংখ্যায় নয়। তারা যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে প্রায় সকল খাতে তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে। যদিও নারীদের চতুর্থ বিশ্ব সম্মেলনের স্লো’/গান ’নারীদের চোখের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখুন’ সব স্থানে বাস্তবায়ন ঘটেনি, সারা বিশ্বে এবং বাংলাদেশে নারীদের অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে কিণ্তু সেটা থাকা সত্বেও অনেক দূর যেতে সক্ষম হয়েছে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display

এর পেছনে আছে সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগ এবং নারী আ’/ন্দো’/লনের কর্মীদের নিরন্তর সং’/গ্রা’/ম মানুষ হিসেবে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বিশ্ব-সমাজ-রাষ্ট্রে নারীর সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য।
শতাব্দীর বস্তাপ’চা ধ্যান-ধারণা, নারীকে ’হে’য় করে দেখার প্রবণতা’ পরিবর্তনের ঐকান্তিক সাধনার-শ্রম; জাতিসংঘের ভূমিকা। অন্যদিকে, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যাত্রা-থিয়েটার-নাটক-সিনেমা জগতের নারীরা নিজেদের অজান্তেই অনেক সামাজিক ট্যা’বুজ একটু একটু করে ভেঙেছেন।

উচ্চবিত্ত-নিম্নবিত্তের ভালো মেয়ে, খা’রাপ মেয়ের সংজ্ঞায়; ধ’র্মীয় ও সামাজিক বিধিনিষেধের জা’লে আবদ্ধ। কারণ মন-মানসিকতা, চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষার আলো এই সমাজের অধিকাংশ বিত্তবান মানুষের মনোজগতের ভো’/গের লি’প্সা ও অন্ধকার জগতের অ’নৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে দ্রুত ধনী হওয়ার প্রবণতা কমাতে পারেনি। এই অনৈতিক কর্মে তারা পণ্যের মতো সুশ্রী নারীদের ব্যবহার করতে দ্বিধা করেননি। ধ’/রা পড়লে তারা আ’ড়ালে চলে গেছেন, নিঃসং’কোচে নারীর দিকে আঙুল তুলেছেন। ফলে সমাজের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, পণ্য বিপণনচিত্রে যারা কাজ করেন, সাংস্কৃতিক জগতের অভিনয় করা মেয়েরা ভালো নয়।

বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা স্বীকৃত। আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান। অ’/প’/রাধ করলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে উভয় নাগরিককে ধ’রা হবে। গ্রে’/প্তা’/র করে আইন অনুযায়ী বিচা’রের আওতায় আনা হবে। দো’/ষী সাব্য’/স্ত হলে শা’/স্তি হবে। এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু পিয়াসা, মৌ ও বিশেষ করে, পরীমণিকে পু’/লি’/শ যেভাবে আ’/ট’ক করল শত উৎসুক মানুষের সামনে এবং মিডিয়া যেভাবে ঘটনাগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরেছে; তাতে তো তারা বিচার শুরু হওয়ার আগে সাধারণ মানুষের চোখে আ’/সা’/মির কা’ঠগ’ড়ায় দাঁড়িয়ে গেলেন।

গ্রে’/প্তা’/র ঠিক আছে, কিন্তু গ্রে’/প্তা’/রের নামে একজন ব্যক্তিকে এইরূপ হে’/নস্তা, নাজেহাল, সাংবিধানিক বিচারে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে সমর্থন করা যায় না।

মুনিয়ার আ’/ত্ম’/হ’/ত্যা; পিয়াসা, মৌ, পরীমণির ম/ম’/লা ও গ্রে’/প্তা’/র শুধু অপ’/রা’/ধ জগতের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার দিকে ঈঙ্গিত করে, তা নয়। যেভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা সমগ্র নারী সমাজের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ল’/ড়া’/ইয়ের সঙ্গে, সংবিধানের সঙ্গে সাং’/ঘ’/র্ষিক। উল্লিখিত নারী ব্যক্তিদের কারা এই জগতে সম্পৃক্ত করেছে, তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা’/হি’/নীর সদস্যরা জানেন বলেই জনগণের বিশ্বাস। জনগণ চায় তাদের নাম প্রকাশিত হোক। তাদের গ্রে’/প্তা’/র ও বিচারের আওতায় আনা হোক। এক যাত্রায়, এক কর্মে শুধু নারী-পুরুষের মধ্যকার লি’/ঙ্গীয় পার্থক্যের কারণে, আর্থিক, শ্রেণিগত বৈষম্য ও অসমতার কারণে দুই রকম ফল কোনোভাবেই কাম্য নয়। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা তাতে দুরূহ।

মুষ্টিমেয় কয়েকজন নারীদেরকে দো’/ষী সা’/ব্যস্ত করার মাধ্যমে প্রকৃত অপ’/রা’/ধী যারা তাদের আ’/ড়াল করার এই বিষয়গুলি প্রকৃতপক্ষে নারীর উন্নয়ন এবং অগ্রগতির প্রতি সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবি’/দ্ধ করে। তথ্য মন্ত্রণালয় এই ধরনের বিষয়ের দা’/য় কোনক্রমে এ’ড়াতে পারে না। এদেশের নাগরিক পরীমনি, তাই এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। মূল অ’/প’/রাধী যারা আছে তাদের হাত দেশের যে সুন্দর আইন রয়েছে তার উর্ধ্বে নয়। তাদেরকে ধরে আইনের আওতায় আনা হোক। আমি বিশ্বাস করি যে, তথ্য মন্ত্রণালয়ের নাগরিকদের মর্যাদা এবং একজন ব্যক্তির মানবাধিকার বিন’/ষ্ট না করে কতটা ন্যা’য্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা যায় সেদিকে একটু নজর দেওয়া দরকার।

লেখনীতে মানবাধিকার কর্মী এবং নারীনে’ত্রী কাজী সুফিয়া আখ্‌তার।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display