২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে মুক্তির আশায় জাতি যখন উদ্বেল তখন প্রবীণ নেতা ড. কামাল হোসেনকে জাতীয় মুক্তির প্রতীক বিবেচনায় ১৩ অক্টোবর ২০১৮ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জন্ম হয়েছিল। দেশের মানুষ যথার্থই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ দেখেছিল। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আমরাও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলনে এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ খুঁজে পেয়েছিলাম। দলীয়ভাবে দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর ৫ নভেম্বর আমাদের দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করেছিল। যোগদানের পর আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করেছি। যখন যেখানে প্রয়োজন হয়েছে সেখানেই উল্কার মতো ছুটে গিয়েছি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর চরম দুর্ভাগ্য ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন। পৃথিবীর কোনো জাতি এমন নির্বাচন দেখেনি। নির্বাচন কমিশন নিজেই বলছেন, কোনো কেন্দ্রে শতভাগ ভোট একেবারে অপ্রত্যাশিত। সেই অপ্রত্যাশিত কাজই এই নির্বাচন কমিশনের অধীন প্রায় সব জায়গায় হয়েছে। দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই, নামগন্ধ কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। যে কারণে দেশে চলেছে লাগামহীন সহিংসতা-হত্যা-গুম-নেশা-ঘুষ-দুর্নীতি-নারীর সম্মানহানি যা সভ্য সমাজে কখনো কাম্য নয়।


সেই অভাবনীয় ঘটনাগুলো দিনের পর দিন ঘটে চলেছে। সার্বিক জাতীয় ঐক্য এবং মানুষজনকে জাগিয়ে তোলার জন্য যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তা প্রতি পদে পদে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবি ছিল ঐক্যফ্রন্টের যথার্থ সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সেই দাবিতে ঐক্যফ্রন্ট বহাল থাকেনি। ঐক্যফ্রন্টের কোনো ফোরামে কোনো আলোচনা না করে গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খান, অন্যদিকে বিএনপির একজন সংসদে শপথ গ্রহণ, তাকে দল থেকে বহিষ্কার, পরবর্তীতে আরও চারজনের শপথ গ্রহণ এবং তাদের অভিনন্দন জানানো। সর্বোপরি বিএনপি মহাসচিবের বগুড়া সদর আসনে নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ না করা এবং পরবর্তীতে সেখানে উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ী হয়ে সংসদে যাওয়া এসব পাতানো খেলা দেখে দেশবাসী বড়ই মর্মাহত, ভোটাররা হতাশ। অন্যদিকে নির্বাচন-পরবর্তী জাতীয় হাজারো সমস্যায় ঐক্যফ্রন্টের যথাযথ ভূমিকা পালনে অসমর্থ হওয়া দেশবাসীর কাছে আমরা নানাভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। নুসরাত হত্যা, মা-বোনের ইজ্জত হরণ, খুন লেগেই আছে। সর্বোপরি সেদিন বরগুনায় রিফাত হত্যাÑএসব ঘটনায় ঐক্যফ্রন্টের কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেই। এতে মানুষের কাছে ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্বই অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ। এসব নানা কারণে ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসা আমাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই আমরা আগামী ৮ জুলাই আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত দেশবাসীর সামনে তুলে ধরব।

গত ২১ জুন শুক্রবার বগুড়া জেলে গিয়েছিলাম সাবেক মন্ত্রী লতিফ ভাইকে দেখতে। তিনি বস্ত্র মন্ত্রণালয় নিয়ে দুদুকের এক অভিযোগে বগুড়া কোর্টে হাজির হতে গেলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জামিন না দিয়ে সরাসরি জেলে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যদিও মামলাটি আমলযোগ্য নয়। অন্যদিকে মামলাটি নিয়ে হাই কোর্টে একটি স্থগিত আদেশ রয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক কী করে হাজিরা নিলেন, কী করে ৮০ ঊর্ধ্ব একজন প্রবীণ রাজনীতিক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জেলে পাঠালেন তা তিনিই জানেন। যে কোনো মামলা-মোকদ্দমায় একজন সুনাগরিকের জামিনে মুক্ত থাকার যে যে শর্ত থাকে তার সবকটি শর্তের পরও বয়সসীমা ৮০ বছরের উপরে হওয়ার পরও তাকে কারাগারে রাখার তেমন কোনো সুযোগ ছিল বলে আমার মনে হয় না। তবু ম্যাজিস্ট্রেট তার ইচ্ছে হয়েছে জেলে পাঠিয়েছেন। তাই পরদিন তাকে দেখতে গিয়েছিলাম।



বগুড়া গিয়ে উপনির্বাচনের কোনো উত্তেজনা দেখিনি। বরং সেদিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের পরীক্ষা ছিল। যে কারণে নানা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা হওয়ায় রাস্তাঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। জেলখানায় ভাইকে দেখে সার্কিট হাউসে আধাঘণ্টার জন্য বসে সেখানে অজু করে কোর্ট মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে ফিরেছিলাম। কিন্তু সত্যিই কোথাও একজন লোককে নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে শুনিনি, কোনো মাইকিং কোনো স্লোগান শুনিনি। সেই নির্বাচন হয়েছে গত ২৪ জুন সোমবার। ১৪১টি কেন্দ্রের ১৩৬টিতে ধানের শীষ জিতেছে। ধানের শীষ ভোট পেয়েছে ৮৯,৭৪২, নৌকা পেয়েছে ৩২,২৯৭। ব্যবধান যদি এমনই হয় তাহলে তো দেশের মানুষের বর্তমান সংসদের প্রতি কোনো আস্থা নেই। অনতিবিলম্বে সংসদ ভেঙে দেওয়া উচিত। ১৪১ কেন্দ্রের ৫ কেন্দ্রে জয়ী, ১৩৬টাতে পরাজয় এমন দলের সরকার পরিচালনার তেমন কি নৈতিক অধিকার থাকে? সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এখনো একটা সাধারণ নির্বাচন হলে মানুষের মধ্যে দেশটা যে জনগণের তেমন প্রত্যাশা ফিরে আসতে পারে। কিন্তু আর বেশি দিন এভাবে চললে মানুষ একেবারে হতাশা হয়ে পড়বে। যে যত বড় নেতাই হোন হতাশার হাত থেকে জাতিকে ফিরিয়ে আনা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তাই বলছি, জনগণ যে দেশের মালিক- এটা সাধারণ মানুষকে ভাবতে দিন। মানুষের রক্ষাকবচ হচ্ছে সমাজ। সেই সমাজ যদি ভেঙে যায় হতাশ হয়ে পড়ে কিংবা নিষ্ক্রিয় হয় তাহলে সেটা হয় সভ্যতার জন্য ভয়াবহ দুর্ভোগ। সে ভয়াবহতা আমাদের নিয়ে চলেছে পতনের দিকে। আমরা ব্রিটিশ তাড়িয়েছি, পাকিস্তান তাড়িয়েছি। সেসব আমলে কখনো দিনদুপুরে নির্বিবাদে কেউ কাউকে কুপিয়ে হত্যা করতে পারেনি। বরগুনায় দিনদুপুরে রিফাত হত্যা আইয়েমি জাহিলিয়াতকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। এ দেশে কোথায় মানুষ, কোথায় পুলিশ।



কেউ নেই কিছু নেই। কত সময় নিয়ে ছেলেটাকে একের পর এক আঘাতের পর আঘাতে জর্জরিত করে হত্যা করা হলো রাস্তার ১০টা মানুষ এগিয়ে এলো না। একটা বধূ আপ্রাণ চেষ্টা করেও তার স্বামীকে বাঁচাতে পারেনি। বাংলাদেশের বর্তমান সমাজে আমি তো দেখছি ওই একটি মেয়ে একটি মহিলাই পুরুষ। ওই মেয়েটি সভ্যতা-মানবতার ধারক-বাহক। ওই সাহসী মেয়েটির সাহসের কাছে আমাদের অবনত হওয়া উচিত। রাষ্ট্র, সমাজ, প্রশাসন সবার তার কাছে নতজানু হওয়া দরকার। মেয়েটি যা করেছে আমরা কেউ তা পারিনি। এখানে আমাদের সভ্যতা আমাদের সমাজ আমাদের প্রশাসন সব ব্যর্থ। আর এই ব্যর্থতার দায় আমরা কেউ এড়াতে পারি না। সরকারি দল নয়, তেমনি বিরোধী দলও নয়, ফ্রন্টের প্রবীণ নেতা কেউ না। যার দ্বারা রিফাত নিহত হয়েছে সে নাকি বরগুনার সন্ত্রাসী জগতের এক আলোচিত ব্যক্তি। নেতৃবৃন্দের ছায়া তার প্রতি আছে এটাই স্বাভাবিক। এরকম ইন্ধন বা আশ্রয় না থাকলে এভাবে কেউ লক লকিয়ে বেড়ে উঠতে পারে? যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন তারা নেশার ঘোরে হয়তো আগে-পিছে কোনো কিছু খেয়াল করেন না। কিন্তু এমন অবাধ দুরাচার ধ্বংস বই মুক্তি আনে না। কুরুক্ষেত্রের ধৃতরাষ্ট্রের শতপুত্র দুর্জধন দুঃশাসন থেকে শুরু করে বরগুনার খুনি নয়ন বন্ড সব একই সূত্রে গাঁথা।

আগে কোথাও বলেছিলাম, লতিফ সিদ্দিকীর জেলযাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৬২-’৬৩ সাল টাঙ্গাইলের এসডিও এ টি এম শামসুল হকের সময় থেকে। জিএম কাদরী বলে আরেক বিহারি এসডিও এসেছিলেন। তিনিই বোধহয় টাঙ্গাইলকে সব থেকে বেশি নাচিয়েছিলেন। টাঙ্গাইলে ছিল এক ছোট্ট সাবজেল। ৬০-৬৫ জনের বেশি থাকার জায়গা ছিল না। ৫-৬ জনের ছিল এক মহিলা ওয়ার্ড। তাই গ্রেফতার হলেই লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে যাওয়া হতো ময়মনসিংহ জেলে। ময়মনসিংহ থেকে বেশ কয়েকবার ঢাকা সেন্ট্রাল জেলেও তাকে পাঠানো হয়েছে। সেদিন বগুড়া জেলে গিয়েছিলাম। কত আদরযত্ন আর ১৯৬৭-’৬৮ সালে ময়মনসিংহ অথবা ঢাকা জেলে যখন যেতাম খুব একটা গুরুত্ব পেতাম না।



আমাদের নামের চাইতে লতিফ সিদ্দিকীর নামই ছিল বেশি। ময়মনসিংহ জেলে একবার লতিফ ভাইর সাক্ষাতের কথা মনে পড়ে। আমরা ভাইবোন পাঁচজনের সাক্ষাৎ ছিল। হঠাৎ ময়মনসিংহ গিয়ে শুনি, ছোটবোন রহিমার নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা ’৬৮ সালের কথা। তখন ময়মনসিংহের ডিসি মোকাম্মেল হক। জেলখানায় লতিফ ভাইর সঙ্গে তার খুব খটাখটি হয়েছিল। রাজবন্দীরা তাকে জেল থেকে ধাওইয়ে বিদায় করেছিল। এরকম একটা অবস্থায় ময়মনসিংহ গিয়ে শুনি সাক্ষাৎপ্রার্থী হিসেবে ছোটবোনের নাম কাটা। ডিআইবি অফিসে খবর নিয়ে জানা গেল কলকাতার দেশ পত্রিকায় রহিমার লেখা ছাপা হয় বলে গোয়েন্দারা তার নাম কেটে দিয়েছে। গেলাম ময়মনসিংহের ডিসির অফিসে। চেহারা ছবি ভালো থাকলেও জামা-কাপড় ভালো ছিল না। আমরা যখন ডিসির ঘরের সামনে তখন তিনি বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। সালাম দিয়ে আমাদের কথা বলতেই তিনি আবার ঘরে গিয়ে বসলেন। বেশ বড় ঝকঝকে তকতকে অফিস। একের পর এক বেল টিপতে লাগলেন। লোকজন ছুটে আসতে লাগল। মনে হচ্ছে না জানি কত বড় ক্ষমতার মালিক। জিজ্ঞেস করলেন, এক মায়ের পেটের ভাইবোন।



ভিন দেশের কোথাও তার লেখা ছাপা হলে নিরাপত্তা আইনে বন্দী বড় ভাইর সঙ্গে ছোট বোন দেখা করতে পারবে না এটা কোথাকার কোন আইন। আমাকে সেই আইন দেখাও। ১০-১৫-২০ মিনিট এ ও ছোটাছুটি করল। কিন্তু কেউ কোনো আইন দেখাতে পারল না। এর মধ্যে আমাদের চমৎকার নাস্তা দেওয়া হলো। জেলা প্রশাসক মোকাম্মেল হক আমাদের অনুমতি দিয়ে দিলেন। নিচে নেমে জেলে যাওয়ার জন্য রিকশায় উঠতে যাব ডিসির আরদালি বললেন, আপনাদের গাড়ি দিয়ে জেলখানায় নিয়ে যেতে এবং সাক্ষাৎ শেষে টাঙ্গাইলের গাড়িতে উঠিয়ে দিতে বলেছেন। কে কখন এসব বললেন, কীভাবে বললেন কিছু বুঝতে পারলাম না। আমরা ডিসির গাড়িতে বসলাম। জীবনে কত ভালো ভালো গাড়িতে বসেছি কিন্তু ময়মনসিংহের ডিসি মোকাম্মেল হকের সেদিনের সেই মার্সিডিজ গাড়ির মতো অত সুন্দর গাড়িতে আর কখনো বসিনি। এসি ছিল কি ছিল না বলতে পারব না। ওর আগে রিকশা নিয়ে যেতে মূল রাস্তায় নামিয়ে দিত। ডিসির গাড়ি যখন জেলগেটে দাঁড়াল সব একেবারে তটস্থ ছোট পকেট গেট দিয়ে যাতায়াত নামতে নামতে বড় গেট খুলে দেওয়া হলো। নিয়ে বসাল জেলারের রুমে। কয়েক মিনিটের মধ্যে লতিফ ভাইকে নিয়ে এলো।



লতিফ ভাই বললেন, তোরা আবার কীভাবে ডিসির ওখানে গিয়েছিলি? ডিসি তো একটা মস্তবড় খচ্চর। ও তো নিজেকে প্রেসিডেন্ট ভাবে। আমরা জেলের ভিতরে ওকে একবার স্যান্ডেল দিয়ে মারতে গিয়েছিলাম। ছোট ছিলাম বড়দের কথা তেমন বুঝতাম না। তবু বললাম, রহিমার নাম কেটে দিয়েছিল। তার জন্য ডিসির ওখানে গিয়েছিলাম। সে তো তার গাড়ি দিয়ে আমাদের জেলে পাঠিয়েছে। সে যাই হোক, অনেক আলাপ-আলোচনার পর আমরা হাসতে হাসতে নাচতে নাচতে চলে এলাম। টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডে ডিসির গাড়ি এসে আমাদের বাসে উঠিয়ে দেওয়ায় বাসে ভাড়া নিল না। সেসব ছিল এক অন্যরকম দিন। এরপর দিন যেতে থাকে লতিফ ভাই মুক্তি পায় আবার জেলে যায়। এ করে ৮-৯ বার জেলে। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সবশেষ মুক্তি পেলেন। আমরা তাকে ময়মনসিংহ থেকে নিয়ে এলাম। সে সময়গুলো ভাবলে শিহরণ জাগে।



লতিফ সিদ্দিকীর নামে ১১৫-১৬টা মামলা ছিল। ’৬৯ সালে বেরোবার পর আর কোনো মামলায় তাকে কোর্টে যেতে হয়নি। আমরা অতবড় না হলেও ৬০-৭০টা মামলার আসামি ছিলাম। ’৬৯ থেকে আর পাকিস্তানি কোর্ট-কাচারিতে মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে যাইনি। দেশ স্বাধীনের পর নিজের মামলার কাগজপত্র নিজেরাই পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ১৭ জানুয়ারি ১৯৯১ ঝিনাইদহ থেকে গ্রেফতার হয়ে যশোহর এবং ঢাকা জেলে ছিলাম ৮-৯ মাস। কিন্তু ’৮০-র পর থেকে লতিফ ভাই জেলে ছিলেন ৮-৯ বছর। তারপর আবার এই সেদিন তার জেলে যাওয়া। যেখানে কোনো মামলা হওয়ার কথা নয়। সরকারি আইন-আদালতে মন্ত্রীরা ফাইলপত্রে কিছু না। সব কাজকর্ম আইনানুগ করেন আমলা ফইলারা। সর্বশেষ হুকুমনামায় কাজ করেন সহকারী সচিব। কিন্তু পাটের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে। যে জমিটি সরকারি বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি এখন পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফাইলপত্র যারা তৈরি করেছে তারা কেউ আসামি নয়। লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে যেতে হবে তাই তার নামে মামলা। লতিফ সিদ্দিকীর জীবন বড় কঠিন। আমরা প্রায় সব তার শিষ্য। তাকে দেখেই রাজনীতিতে এসেছি। কত জজ-ব্যারিস্টার তার কর্মী লেখাজোখা নেই।

বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতিও ছিলেন এক সময় তার অনুরক্ত। এখনো তাদের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। কিন্তু ’৬৯-এর পরে লতিফ সিদ্দিকী কখনো অনুকূল পরিবেশ পাননি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে এক সময় মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। পাট মন্ত্রণালয় তার জন্য উপযুক্ত ছিল না। তার জন্য ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় উপযুক্ত স্থান, তার জন্য ছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। কিন্তু যেসব তিনি পাননি, তাই তার মেধা কোনো কাজে লাগেনি। আজ তাকে দেখতে বগুড়া জেলে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাকে গত পরশু বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ৩১২ নম্বর কেবিন ব্লকে আনা হয়েছে। তাই আজ আর বগুড়া যাওয়া হলো না। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বগুড়া যাব ইনশা আল্লাহ।

লেখক : রাজনীতিক।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরো পড়ুন

'বন্ধু সেজে ছুরি মারা'র মতো কাজ করলো চীন, অভিযোগ মিয়ানমারের

02 July, 2020 | Hits:490

দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশ চীন এবং মিয়ানমার যাদের বন্ধুত্ব অনেক দেশের জন্য ঈ’র্ষারও বটে। কিন্তু সেই বন্ধু দেশ মিয়ানমারই এবার...

ভারতীয় ভূখণ্ডে মোদির সফর, তবুও তোপ দেখালো বেইজিং

03 July, 2020 | Hits:414

চীন এবং ভারতের মধ্যকার সীমান্ত উত্তে’জনার মাঝেই অনেকটা হঠাৎ করেই লাদাখ স’ফরে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স...

সামান্যতম ভুলে টিকটক তারকার অন্ত'রঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও রাতারাতি ভা'ইরাল

02 July, 2020 | Hits:369

বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো হয়ে উঠেছে বেশ জনপ্রিয়। স্মার্ট ফোন এখন ভিডিও ক্যামেরা থেক...

অধিকাংশ মানুষেরই করোনা ভ্যাকসিনের প্রয়োজন পড়বে না: অক্সফোর্ড গবেষক

02 July, 2020 | Hits:324

করোনা নামক একটি অদৃশ্য ভাইরাস সৃষ্টি করে চলেছে এক প্রলয় যার কারনে মানুষ আজ অনেকটাই দিশেহারা, বিপ’র্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো প...

সালমানের সাথে তিন মাস বাগানবাড়িতে কাটালেন জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ

02 July, 2020 | Hits:309

সালমান খানকে এখনও ভারতের সর্বাধিক আকাঙ্ক্ষিত ব্যাচেলর বলা হয়। অনেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে তিনি ক্যাটরিনা কাইফ, ঐ...

করোনার কার্যকর ভ্যাকসিন পেতে কত সময় লাগতে পারে জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

03 July, 2020 | Hits:252

কোভিড-১৯ মহামারী স্থবির করে দিয়েছে সারা বিশ্বকে যার কারনে জনজীবন আজ হয়ে পড়েছে বিপ’র্যস্ত। এই মা’রন রোগ চিকিৎসক, বিজ্ঞানী...

ভারতের ছোট্ট একটি প্রতিশোধে চীনের ক্ষতির পরিমান ৬ বিলিয়ন ডলার

03 July, 2020 | Hits:245

সীমান্তে ঘটনার জেরে ভারতের নিজস্ব ভূখন্ডে বয়কট করলো চীনা পন্য এবং সে সাথে বন্ধ করলো টিকটকসহ অন্তত ৫৯টি চীনা অ্যাপ। এরপর ...

চীনকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টায় শেষপর্যন্ত হংকং বিষয়ে মুখ খুলল নয়াদিল্লি

02 July, 2020 | Hits:237

ভারত এবং চীনের মধ্যকার পূর্বের যে বিরাজমান সম্পর্ক তা এখন ভারসাম্যহীনতার মুখোমুখি। দেশ দুটি তাদের সীমান্ত বি’রোধ সমাধান ...

সীমান্ত উ'ত্তেজনা উপেক্ষা করেই যে কারনে লাদাখ পৌঁছলেন মোদি

03 July, 2020 | Hits:226

ভারত চীন সীমান্তের ঘটনায় দেশ দুটির মধ্যে যেন বি’রোধ চ’রম পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েক দফায় দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক চ...