গ্রামের বাড়িতে যাবার পর ব্যক্তিগত প্রয়োজনেই একটি ব্যাংকে গেলাম। শাখা ব্যবস্থাপক পূর্ব পরিচিত। শাখা ব্যবস্থাপকের চেম্বারে বসার কিছু সময় পর একজন বয়স্ক লোক (বয়স সত্তরের ওপরে হবে) আসলেন, তার টাকা একজন চালাকি করে নিয়ে গেছেন।

কীভাবে নিয়ে গেছে জানতে চাইলে বললেন, গতকাল দুপুরের সময় আমি ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা উঠিয়ে পাশের চায়ের দোকানে গেলাম। সেখানে এক কোণায় টাকাগুলো আমি গুনছিলাম।

এক লোক আমার কাছে এসে বলল, চাচা আপনার কাছে তো সব ১০০০ টাকার নোট। আমি ঢাকা যাব, আমার কাছে ৫০০ টাকার আছে।

আপনি যদি বড় নোট আমাকে দেন, তবে আমার অনেক উপকার হবে। আমি ব্যাংকের টাকা ওই লোককে দিয়ে দিলাম।
আর তিনি ৫০০ টাকার দুই বান্ডেল নোট আমাকে দিলেন। লোকটি আমাকে চা-বিস্কুট খাওয়ালো। আমার সাথে দশ বছরের নাতি ছিল। তাকেও চিপস কিনে দিয়েছিল।

ম্যানেজারঃ আপনি সেই টাকা গুনে নেননি?

ভদ্রলোকঃ আমি তো গুনি নাই। সেই লোক আমার সামনে তার সেই টাকা গুনে দিয়েছিল।

ম্যানেজারঃ তাহলে সমস্যা কোথায়?

ভদ্রলোকঃ গতকাল রাতে যখন টিনের দোকানে টিনের দাম দিতে যাবো, তখন মেয়েকে বললাম তিরিশ হাজার টাকা দাও। মেয়ে টাকা গুনতে যেয়ে দেখে, ৫০০ টাকার মধ্যে ১০০ টাকার নোট ঢোকানো।

ম্যানেজারঃ কী বলেন, তারপর?

ভদ্রলোকঃ প্রথম বান্ডেলে ৪০ টা ১০০ টাকার নোট ঢুকানো ছিল। আর অন্য বান্ডেলেও ৪০ টা ১০০ টাকা নোট ছিল।

ম্যানেজারঃ তার মানে ৮০টা ৫০০ টাকার নোটের জায়গায় ১০০ টাকা ছিল। আপনার তো ৩২,০০০ টাকা ক্ষতি হয়ে গেল।

ভদ্রলোকঃ ছেলেটার এত কষ্টের টাকা।

ম্যানেজারঃ সব ঘটনা তো ব্যাংকের বাইরে ঘটছে। চায়ের দোকানও একটু দূরে। এখন আমি আপনার জন্য কী করতে পারি বলেন?

ভদ্রলোকঃ আমি যখন ব্যাংকে ছিলাম, তখন ওই লোককে আমি ব্যাংকের ভেতর দেখছিলাম। আপনি একটু ক্যামেরায় দেখে দেন।

ম্যানেজারঃ আপনি বসেন। আমি দেখাচ্ছি।

পুরো ঘটনাটি শুনে মন খারাপ হয়ে গেল। তবে এ রকম ঘটনা আমাদের চারপাশেই ঘটছে। হরদম ঘটছে। হয়ত প্রেক্ষাপট ভিন্ন। প্রতরণার ধরনে মিল নেই। কিন্তু প্রতারণা তো প্রতারণাই। সাধারণ, নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

লেখক-রিয়াজুল হক, উপপরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক