সরকারি কর্মকর্তারা গত কয়েকদিনে যেসব কারণে সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন তার কয়েকটির দিকে চোখ বুলানো যাক৷
অতিরিক্ত সচিবের কারণে ফেরি আটকে থাকে বলে অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগী মারা গেছে৷

একজন কারা কর্মকর্তার বাড়িতে ঘুসের ৮০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে৷

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ্ব করতে যান সরকারি কর্মকর্তারা আর তার দেখভাল করতে গেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার৷

সরকারি কর্মকর্তার পানিতে পড়া মোবাইল উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন সরকারি ডুবুরি দল৷

একজন অতিরিক্ত সচিব গবেষণার জন্য একজন অধ্যাপককে হুমকি-ধমকি দেন৷

প্রতিযোগীদের ছাড়াই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গেলেন নাসায়৷

সরল বিশ্বাসে করা কোনো কাজ সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি হিসেবে বিবেচিত হবে না—দুদক প্রধানকে পেনাল কোড স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় ডিসি সম্মেলনে৷

পাঠক, কী মনে হচ্ছে?

সরকারি কর্মকর্তারা কি নিজেদের দেশের মালিক আর আমাদের প্রজা ভাবতে শুরু করেছেন? নাকি তারা পুরস্কার পাচ্ছেন কোনো অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের?

আমাদের ধারণা ভুল হতে পারে৷ তবে বেসামরিক বা সামরিক আমলারা যে অন্য যে-কোনো সময়ের তুলনায় বেশি ক্ষমতাশালী সে বিষয়ে অনেকেরই কোনো সন্দেহ নেই৷

সরকারি কর্মকর্তারা কোনো জনবিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী নন৷ তারা আমাদের বোন, আমাদেরই ভাই৷ তারা যদি নিজেদের শাসক ভাবতে শুরু করেন তবে এর দায় নিশ্চয়ই আমাদেরও৷ নিজেদের যারা জনপ্রতিনিধি মনে করেন তারা নিশ্চয়ই বিষয়টি দেখবেন৷

আমরা দেখতে চাই এইসব কাজের কোন কোনগুলো অপরাধ? আর এইসব অপরাধের জন্য কে কোন শাস্তি পাচ্ছেন? মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতন্ত্র যেখানে জনগণই সব ক্ষমতার মালিক৷খালেদ মুহিউদ্দীন, প্রধান, ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগ