সরকার বজ্রপাত থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিশেষ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ৩০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কারিগরি কমিটির পরামর্শ মোতাবেক কী ধরনের উপায়ে বজ্রপাতের হাত থেকে ক্ষ’য়ক্ষ’তির পরিমান কমানো যাবে সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সকল প্রকল্পের মধ্যে আছে অ্যালার্মিং সিস্টেম, হাওর ও খোলা জায়গায় তাঁবু বা ছাউনি তৈরী এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। প্রথম দিকে এই পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ২৩ টি জেলাতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে যার মধ্যে ঐ এলাকায় এক হাজার ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এই জেলাগুলিকে বজ্রপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display

প্রাসঙ্গিক সূত্র জানিয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার সাথে সাথেই তিনি মানুষকে বজ্রপাত থেকে রক্ষা করার কথা ভাবতে শুরু করেন। এরই মধ্যে তারা দেশের গবেষকদের নিয়ে সেমিনারও করেছে। সেখান থেকে অনেক পরামর্শ এসেছে। বিদেশে বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে সেই পরামর্শ ও গবেষণার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে প্রকল্পটি তার অনুমোদন সাপেক্ষে গতি পাবে।

জানা গেছে, এ প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হলে দেশের যে এলাকায় যখন বজ্রপাতের আ’/শ’/ঙ্কা দেখা দেবে, তখন ওই এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে মেসেজ চলে যাবে যে কখন, কোন জায়গায় ব’জ্রপাত হবে। অন্তত ৪০ মিনিট আগে সেই তথ্য তাদের জানানো যাবে এবং আবহাওয়া বার্তার মতো প্রচারমাধ্যমেও সেটি প্রচার করা হবে। এতে করে মেসেজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারবে।

সুনামগঞ্জ, সিলেট, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাজশাহীসহ দেশের ২৩টি জেলাকে বজ্রপাতপ্রবণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জেলাগুলোতে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এক হাজারটি ছাউনি তৈরি করা হবে, যার ওপরে বজ্রপাত নিরোধক দ’/ণ্ড ব্যবহার করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান গতকাল রবিবার সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে বলেন, ’বজ্রপাত থেকে মানুষকে বাঁ’চাতে একটি প্রজেক্ট নিয়েছি। বজ্রপাতপ্রবণ জেলাগুলোতে লাইটিং ডিটেক্টর সেন্টার বসাব। ৪০ মিনিট আগে সিগন্যাল দেবে। সিগন্যালটি অ্যাপের মাধ্যমে ওই এলাকার বাসিন্দাদের কাছে চলে যাবে। আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হবে। ফাঁকা স্থানে এক কিলোমিটর ব্যবধানে আশ্রয়কেন্দ্র করা হবে, যাতে সিগন্যাল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারে।’

তিনি জানান, প্রজেক্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর কাজ শুরু করা হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি বছর ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে ২৮২ জন মা’/রা গেছে, যাদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগে ৪২, ময়মনসিংহে ৩০, চট্টগ্রামে ২৩, সিলেটে ২৫, রংপুরে ২৭, রাজশাহীতে ১০৪, বরিশালে ১০ ও খুলনায় ২১ জন। সবচেয়ে বেশি মা’/রা গেছে রাজশাহীতে।

এ ছাড়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালে মারা যায় ১৭৯ জন। ২০১২ সালে ২০১, ২০১৩ সালে ১৮৫, ২০১৪ সালে ১৭০, ২০১৫ সালে ২২৬, ২০১৬ সালে ৩৯১, ২০১৭ সালে ৩০৭, ২০১৮ সালে ৩৫৯, ২০১৯ সালে ১৯৮ জন ও ২০২০ সালে ২৪৭ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ অ্যালার্মিং সিস্টেম ও বজ্র নিরোধক দ’/ণ্ড ব্যবহার করে হ’/তাহ’/তের সংখ্যা কমাতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সিস্টেম চালু হতে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বজ্রপাতের প্রধান কারণ হচ্ছে ভৌগোলিক অবস্থান। বড় গাছ কাটাও একটি কারণ। লম্বা গাছপালাও বজ্রপাত রো’ধে কাজ করে। খোলা জায়গায় কাজ করা মানুষ এবং বজ্রপাত সম্পর্কে অজ্ঞতাও বজ্রপাতের কারণে মৃ’/’ত্যুর বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তাপমাত্রা বাড়লেও বজ্রপাতের সম্ভাবনাটাও বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে হলে, বজলুর রশিদ যিনি সিনিয়র আবহাওয়াবিদ হিসেবে রয়েছেন তিনি দেশের একটি নামকরা গনমাধ্যমকে বলেন, আমরা যদি এলার্ম সিস্টেম করতে পারি, তাহলে মানুষকে কিছুক্ষন আগে থেকেই সতর্ক করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে বজ্রপাতের কারনে যে মৃ’/ত্যু বেড়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে একের পর এক গাছ কাটা হচ্ছে বিশেষ করে বড় বড় গাছগুলো, যার কারণে এই সমস্যা বাড়ছে। তিনি আরও যোগ করে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বজ্রপাতের হাত থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বজ্রনিরোধক রড ব্যবহার করা হয়ে থাকে।















আরো পড়ুন

Error: No articles to display