দলিত সম্প্রদায় নিয়ে করা তার এনজিও ’শারি’র ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় নিজেরসহ পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
এক প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়া সাহা বলেন, ’আমার পরিবার ভীষণ সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কারণ বাসার সামনে কালকে তালা ভাঙতে চেষ্টা করা হয়েছে। কালকে আমার বাসার সামনে মিছিল করা হয়েছে। সব চাইতে বড় ব্যাপার হলো, আমার পরিবারের ছবি ছেপে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। কথা বলেছি আমি, তারা আমার ছবি দিতে পারতো। কিন্তু আমার পরিবারের ছবি পত্রিকায় দিয়ে তাদের সবার জীবনকে বিপন্ন করে ফেলা হয়েছে।’

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ কোনো অবস্থাতেই তার কাজের সঙ্গে যুক্ত নয় বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে চিত্র তুলে ধরেছেন, তা সরকারি পরিসংখ্যানের আলোকেই করেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয় সাহা। তিনি জানান, দেশের বিরুদ্ধে তিনি কিছু বলেননি।
তিনি জানান, তাঁর বক্তব্যের পর দেশে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় ’বিপন্ন’ বোধ করছে তাঁর পরিবার। তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দিয়ে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁর বক্তব্য দেশের বিরুদ্ধে ’ভয়ংকর মিথ্যা’।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রিয় সাহা রাষ্ট্রদ্রোহের মতো কিছু করেননি। তবে তাঁর বক্তব্য ’মিথ্যা ও অগ্রহণযোগ্য’। দেশে ফিরলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতি প্রসঙ্গে প্রিয় সাহা বলেন "আমি দেশের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলিনি। দেশের বিরুদ্ধে আমি কোনো অবস্থাতেই কথা বলব না।"

তিনি বলেন, "যে দেশে হাজার বছর ধরে বংশপরম্পরায় আমরা বসবাস করছি, সেই মাটির বিরুদ্ধে কেন আমি মিথ্যা কথা বলব?"

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩৭ মিলিয়ন বা তিন কোটি ৭০ লাখ মানুষ ’ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ বা গুম বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে প্রিয় সাহা যে অভিযোগ করেছেন তার ব্যাখ্যা চাইলে তিনি বেনারকে বলেন, "আমি যা বলেছি তা সম্পূর্ণভাবে সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করেই বলেছি।"

তিনি বলেন, "১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায় মিলে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল ২৯ দশমিক সাত শতাংশ। বাংলাদেশে বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ধরলে সংখ্যালঘু থাকার কথা ছিল ৫৩ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন বা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। কিন্তু ২০১১ সালের শুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নয় দশমিক সাত ভাগ। অর্থাৎ ১৮ কোটির মধ্যে ১৭ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন বা পৌনে দুই কোটি।"

তিনি বলেন, "এখন সংখ্যালঘুদের সংখ্যা যা হওয়ার কথা ছিল তা থেকে বর্তমান বাস্তব সংখ্যা বাদ দিলে দাঁড়ায় ৩৬ মিলিয়নের মতো, হয়তো আরও বেশি। মানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার অনুসারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওই সংখ্যক বাড়তি মানুষও বর্তমানে দেশে থাকার কথা ছিল, কিন্তু নেই। আমি সেটাকেই সংক্ষেপে ৩৭ মিলিয়ন ’ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ বলে বোঝাতে চেয়েছি।"

’ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ বা গুম শব্দের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "হতে পারে ওই ক্ষেত্রে ’মিসিং পপুলেশন’ কথাটা যথাযথ হতো, কিন্তু ইংরেজি আমার মাতৃভাষা না, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ’ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ শব্দটা মুখে চলে এসেছে।"

তিনি বলেন, "কিন্তু আমি এটা বলিনি যে, এদেরকে মেরে ফেলা হয়েছে, বা গুম করে ফেলা হয়েছে। বলতে চেয়েছি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আরো অনেক মানুষের দেশে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নেই।"

প্রিয় সাহা বলেন, "বাংলাদেশের ৯৯ পার্সেন্ট মানুষ অসাম্প্রদায়িক। কিছু দুষ্ট লোক আছে যারা ঘটনাগুলো ঘটায়। আমার বাড়িতে যখন হামলা হয় তখন অনেক মুসলমান আমার পক্ষে এগিয়ে এসেছে।"

চলতি বছরের ২ মার্চ ও ২২ এপ্রিল দুই দফায় পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার চরবানিয়ারি গ্রামে তাঁদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রিয় সাহা বলেন, "মামলা হয়েছে, পত্র পত্রিকায় সন্ত্রাসীদের নাম-পরিচয়সহ সংবাদও ছাপা হয়েছে, কিন্তু পুলিশ আজ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি।"

"আমি ব্যক্তিগতভাবে সব রাজনৈতিক দলের সাথে কথা বলেছি, সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত গেছি, কিন্তু কোনো বিচার পাইনি," যোগ করেন তিনি।

তাঁর গ্রামে ২০০৪ সালে ৪০টি হিন্দু পরিবার ছিল, কিন্তু বর্তমানে মাত্র ১৩টি পরিবার টিকে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "বেশিরভাগই দেশছাড়া, বাকিরা গ্রামছাড়া।"

আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা কী? বেনারের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রিয় সাহা বলেন, "আমি যুক্তরাষ্ট্রেও বলেছি, আমি দেশে থাকতে চাই। আমি দেশে থাকব। আমি অবশ্যই দেশে ফিরব।"

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আমন্ত্রণে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে এসেছেন জানিয়ে প্রিয় সাহা বলেন, "আমি অনেকটা হঠাৎ করেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। ঐক্য পরিষদের কেউ জানে না যে আমি এখানে এসেছি।"
আমার পরিবারের পত্রিকায় ছবি ছাপিয়ে তাদের জীবন বিপন্ন করে তোলা হয়েছে: প্রিয় সাহা(ভিডিও)
Logo
Print

জাতীয় Hits: 421

 

দলিত সম্প্রদায় নিয়ে করা তার এনজিও ’শারি’র ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় নিজেরসহ পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
এক প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়া সাহা বলেন, ’আমার পরিবার ভীষণ সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কারণ বাসার সামনে কালকে তালা ভাঙতে চেষ্টা করা হয়েছে। কালকে আমার বাসার সামনে মিছিল করা হয়েছে। সব চাইতে বড় ব্যাপার হলো, আমার পরিবারের ছবি ছেপে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। কথা বলেছি আমি, তারা আমার ছবি দিতে পারতো। কিন্তু আমার পরিবারের ছবি পত্রিকায় দিয়ে তাদের সবার জীবনকে বিপন্ন করে ফেলা হয়েছে।’

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ কোনো অবস্থাতেই তার কাজের সঙ্গে যুক্ত নয় বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে চিত্র তুলে ধরেছেন, তা সরকারি পরিসংখ্যানের আলোকেই করেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয় সাহা। তিনি জানান, দেশের বিরুদ্ধে তিনি কিছু বলেননি।
তিনি জানান, তাঁর বক্তব্যের পর দেশে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় ’বিপন্ন’ বোধ করছে তাঁর পরিবার। তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দিয়ে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁর বক্তব্য দেশের বিরুদ্ধে ’ভয়ংকর মিথ্যা’।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রিয় সাহা রাষ্ট্রদ্রোহের মতো কিছু করেননি। তবে তাঁর বক্তব্য ’মিথ্যা ও অগ্রহণযোগ্য’। দেশে ফিরলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতি প্রসঙ্গে প্রিয় সাহা বলেন "আমি দেশের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলিনি। দেশের বিরুদ্ধে আমি কোনো অবস্থাতেই কথা বলব না।"

তিনি বলেন, "যে দেশে হাজার বছর ধরে বংশপরম্পরায় আমরা বসবাস করছি, সেই মাটির বিরুদ্ধে কেন আমি মিথ্যা কথা বলব?"

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩৭ মিলিয়ন বা তিন কোটি ৭০ লাখ মানুষ ’ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ বা গুম বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে প্রিয় সাহা যে অভিযোগ করেছেন তার ব্যাখ্যা চাইলে তিনি বেনারকে বলেন, "আমি যা বলেছি তা সম্পূর্ণভাবে সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করেই বলেছি।"

তিনি বলেন, "১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায় মিলে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল ২৯ দশমিক সাত শতাংশ। বাংলাদেশে বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ধরলে সংখ্যালঘু থাকার কথা ছিল ৫৩ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন বা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। কিন্তু ২০১১ সালের শুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নয় দশমিক সাত ভাগ। অর্থাৎ ১৮ কোটির মধ্যে ১৭ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন বা পৌনে দুই কোটি।"

তিনি বলেন, "এখন সংখ্যালঘুদের সংখ্যা যা হওয়ার কথা ছিল তা থেকে বর্তমান বাস্তব সংখ্যা বাদ দিলে দাঁড়ায় ৩৬ মিলিয়নের মতো, হয়তো আরও বেশি। মানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার অনুসারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওই সংখ্যক বাড়তি মানুষও বর্তমানে দেশে থাকার কথা ছিল, কিন্তু নেই। আমি সেটাকেই সংক্ষেপে ৩৭ মিলিয়ন ’ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ বলে বোঝাতে চেয়েছি।"

’ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ বা গুম শব্দের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "হতে পারে ওই ক্ষেত্রে ’মিসিং পপুলেশন’ কথাটা যথাযথ হতো, কিন্তু ইংরেজি আমার মাতৃভাষা না, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ’ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ শব্দটা মুখে চলে এসেছে।"

তিনি বলেন, "কিন্তু আমি এটা বলিনি যে, এদেরকে মেরে ফেলা হয়েছে, বা গুম করে ফেলা হয়েছে। বলতে চেয়েছি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আরো অনেক মানুষের দেশে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নেই।"

প্রিয় সাহা বলেন, "বাংলাদেশের ৯৯ পার্সেন্ট মানুষ অসাম্প্রদায়িক। কিছু দুষ্ট লোক আছে যারা ঘটনাগুলো ঘটায়। আমার বাড়িতে যখন হামলা হয় তখন অনেক মুসলমান আমার পক্ষে এগিয়ে এসেছে।"

চলতি বছরের ২ মার্চ ও ২২ এপ্রিল দুই দফায় পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার চরবানিয়ারি গ্রামে তাঁদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রিয় সাহা বলেন, "মামলা হয়েছে, পত্র পত্রিকায় সন্ত্রাসীদের নাম-পরিচয়সহ সংবাদও ছাপা হয়েছে, কিন্তু পুলিশ আজ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি।"

"আমি ব্যক্তিগতভাবে সব রাজনৈতিক দলের সাথে কথা বলেছি, সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত গেছি, কিন্তু কোনো বিচার পাইনি," যোগ করেন তিনি।

তাঁর গ্রামে ২০০৪ সালে ৪০টি হিন্দু পরিবার ছিল, কিন্তু বর্তমানে মাত্র ১৩টি পরিবার টিকে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "বেশিরভাগই দেশছাড়া, বাকিরা গ্রামছাড়া।"

আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা কী? বেনারের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রিয় সাহা বলেন, "আমি যুক্তরাষ্ট্রেও বলেছি, আমি দেশে থাকতে চাই। আমি দেশে থাকব। আমি অবশ্যই দেশে ফিরব।"

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আমন্ত্রণে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে এসেছেন জানিয়ে প্রিয় সাহা বলেন, "আমি অনেকটা হঠাৎ করেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। ঐক্য পরিষদের কেউ জানে না যে আমি এখানে এসেছি।"
Template Design © Joomla Templates | GavickPro. All rights reserved.