সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একই সাথে প্রিয়ার সাহার এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গী হওয়ায় তার স্বামী মলয় সাহাকেও অতিদ্রুত চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের প্রতি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে ভয়ংকর মিথ্যাচার করেছেন বাংলাদেশি নারী প্রিয়া সাহা। সে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। এ নিয়ে সরকারের উচ্চ মহল থেকে শুরু করে দেশের সকল মানুষের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

এদিকে প্রিয়া সাহাকে নিয়ে বোমা ফাটিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি বলেন, প্রিয়া সাহা নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন।

আজ শনিবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিকী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।

এ সময় প্রিয়া সাহা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, কোথাকার কোন প্রিয়া সাহা। সে গিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে নালিশ করেছে ডোলান্ড ট্রাম্পের কাছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কি, বাংলাদেশের লটকা? মনে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রভু! ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রভূ না। বাংলাদেশের প্রভু হচ্ছে জনগণ আর সেই জনগণ তার গার্জিয়ান বানিয়েছে শেখ হাসিনাকে। কারো কাছে জমা টেক্স দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা হন নাই।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার নালিশ দেওয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ওই মহিলা অন্য কোনো কারণে করে নাই। উনি কারো থেকে বুদ্ধি নিয়েছেন, শিক্ষা নিয়েছেন তারপর বলেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুইটা শ্রেণী আছে একটা সুশীল শ্রেণী একটা কুশীল শ্রেণী। আমরা হইলাম কুশীল আর কেউ হইছে সুশীল। এরা নিজেরাই নিজেদের সুশীল বলে। আমি পার্লামেন্টে বলছিলাম একদিন একজন সুশীলের নামে। উনার মেয়ের থেকেও অল্প বয়সের মেয়েকে উনি বিয়ে করেছেন যখন বাচ্চা হয়ে গেছে ৬ মাসের মাথায়, তখন বলছিলাম বাব্বাহ সুশীলের তো অনেক জোর দেখা যায়! উনি আবার একজন বড় অ্যাডভোকেট, আইনের প্রফেসর। আমি আবার উনার নাম বলতে চাই না।

শামীম ওসমান বলেন, এমন অনেক সুশীল-কুশীল খেলা বাংলাদেশে চলতেছে, সামনে আরও অনেক খেলা আছে। প্রিয়া সাহার মেয়ে দুইটা থাকে আমেরিকায়। উনি চিন্তা করছেন, এই একটা সহজ জিনিস আছে। উনি ওটা উনার ব্যক্তিগত স্বার্থে বলেছেন। রাজনৈতিক আশ্রয় চাবেন। আর কিছু না। তিনি ওখানে দেখাবেন, আমি দেশে গেলে আমাকে মেরে ফেলবে, দেখবেন দুই চারদিনের মধ্যে এটা উনি বলবেন। আরেকটা দেশের গোয়েন্দা সংস্থা। ওটা অন্য একটা দেশ। ছোট একটা দেশ। যারা সারা পৃথিবীর অন্য জায়গায় হামলা করে। ওদেরও কিছু হাত-টাত আছে এখানে। বুঝি আরকি।

প্রিয়া সাহা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, উনি বলতে গিয়ে সংখ্যা একটু বেশি বলে ফেলছেন। তিন কোটি ৭০ লাখ না হয়ে যদি শুধু ৭০ হইতো, জিনিসটা খাইতো। ২০০১ এর পরতো ২০-৫০ লাখ লোক বিএনপি-জামাতের অত্যাচারে দেশ ছাড়ছে, ৭৫ এর পর ছাড়ছে, ৭১ এর পর ছাড়ছে না? ওটা যদি তিনি সঠিক ভাবে বলতেন, তাহলে শ্রদ্ধার পাত্র হতেন না।