সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন,’আজকে বাংলাদেশে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দুর্যোগ, দুর্ভোগ মৃত্যু- এর বাহিরে বাংলাদেশের কোনও চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আর এই মৃত্যুগুলো এতটাই অবহেলিত যে একজন অতিরিক্ত সচিব আসবে বলে ফেরি আটকে রাখা হয় তিন ঘণ্টা। একজন স্কুলছাত্রের মা অনেক কান্নাকাটি করেছেন। আতি প্রকাশ করে বলেছেন- ’ফেরিটা ছাড়েন, আমার ছেলে খুবই অসুস্থ’। কিন্তু সেটি করা হয়নি শুধুমাত্র একজন অতিরিক্ত সচিবের জন্য। এই ছেলেটা একদিন হয়তো হতে পারতেন শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, সাকিব আল হাসানের মতো প্রতিভাধর ব্যক্তি।’
আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সব জিনিসের দাম বাড়লেও তিনটি জিনিসের মূল্য সবচেয়ে বেশি কমে যায় মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ’আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানুষের জান, কৃষকের ধান, আর নারীর মান- এই তিনটি জিনিসের মূল্য অনেক কমে যায়। যার প্রমাণ আমরা অতীতে পেয়েছি। এখনও পাচ্ছি।’

অতীতের প্রতি আলোকপাত করে আলাল বলেন, ’বয়স্ক যারা আছেন তারা হয়তো জানেন- ঠিক এরকমই গণপিটুনি শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ ১৯৭২-৭৫ সময়কালে। সেই সময় ’হাইজাকার হাইজাকার’ বলে বহু নেতাকর্মীকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছিল। আবার এই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠা দিয়ে মানুষকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এত নির্যাতন করে সাপকেও কেউ মারে না। হিংস্র প্রাণীকেও কেউ মারে না। মানুষ মারা
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি বিকৃত উল্লাস। মানুষের জীবন নিয়ে মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে তারা খেলায় মত্ত থাকতে বেশি পছন্দ করে।’

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্বাধীনতা হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বারবার বাধাগ্রস্ত করার প্রতিবাদে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্যোগের সময় প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরের সমালোচনা করে যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ’অনেকেই বলছেন আওয়ামী লীগের প্রধান আজকে কোথায় অবস্থান করছেন কি করছেন? দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তিনি লন্ডনে কেন? আপনাদের মনে থাকার কথা- এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে আজকে যাঁর মুক্তির দাবিতে আমরা সমাবেশ করছি সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে দেশের বাইরে ছিলেন। তখন তিনি ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের খবর পেয়ে সফর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করে বাংলাদেশে ছুটে এসে দ্রুত দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এবং তিনি তাঁর মন্ত্রী-এমপিদেরকে বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আর আজকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) লন্ডনে বসে ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন ডেঙ্গু আর বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ’স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মত একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী যখন বলেন- ’সাপে কেটে প্রতিদিন কত মানুষ মারা যাচ্ছে, রোড এক্সিডেন্টে প্রতিদিন কত মানুষ মারা যাচ্ছে, পানিতে ডুকে কত মানুষ মারা যাচ্ছে- সেগুলো নাকি মিডিয়া প্রচার করছে না। সেগুলো নাকি মিডিয়ায় প্রচার হয় না। সবাই নাকি ডেঙ্গু নিয়ে ব্যস্ত। মানবতার প্রতি আ.লীগের যে সামান্যতম দায়িত্ব নেই সেটি এই অবৈধ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ’কালকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। আজকেরও এই সমাবেশ থেকে আমরা সেই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে তাদের পদত্যাগ দাবি করছি। মানুষের জীবনের সামান্যতম নিরাপত্তা দিতে তারা চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন আর শুধু বিএনপির দাবি নয়- এটা এখন গণমানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আলাল।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা নাসির উদ্দিন হাজারীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় প্রতিবাদী যুব সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহ মোহাম্মাদ নেছারুল হক ও সাবিরা নাজমুল প্রমুখ বক্তব্য দেন।