রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও গোলাম রাব্বানী সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বরত আছেন, ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে তারা সংগঠনটির নেতৃত্বে আসেন।ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ধংসাত্মক এবং আইনবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এই ছাত্র সংগঠনটি দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।গণভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্থায়ী অনুমতি ছিল। ফলে এতদিন গণভবনে প্রবেশের জন্য অন্য অনেকের মতো তাদের আলাদা কোনো অস্থায়ী পাস বা প্রবেশ কার্ড নেওয়া লাগতো না। যেকোনো সময় তারা গণভবনে প্রবেশ করতে পারতেন।
ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর গণভবনে প্রবেশের পাস স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তাদের পাস বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গণভবন সূত্র।

এর আগে গত শনিবার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং অযোগ্যতার কারণে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সভায় তিনি শোভন-রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর ছড়িয়েছিল।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিবাহিত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, চাকরিজীবীসহ বির্তকিতদের পদ দেওয়া, ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করা, কমিটি দিতে অর্থনৈতিক লেনদেনসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে এই দুজনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেরিতে যাওয়া এমনকি আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের গাড়িতে ওঠাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে জড়ান ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। এসময় দায়িত্বরত এক সাংবাদিককে শোভনের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় এবং সাংবাদিকের মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ডিলিট করা হয়। এমন অবস্থার মধ্যে গণভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাস বাতিল করার খবর পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত,গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এর প্রায় দেড় মাস পরে ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতির সম্মতিক্রমে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

১০ মাস পর চলতি বছরের মে মাসে যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগে দেখা দেয় বিভেদ। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত, ব্যবসায়ী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, চাকরিজীবীসহ বির্তকিতদের পদ দেওয়া, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করা, কমিটি দিতে অর্থনৈতিক লেনদেন, মাদক সম্পৃক্তরা কমিটিতে স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখায় একটি পক্ষ।ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিজেই বিবাহিত এমন অভিযোগও রয়েছে। সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে অযোগ্যতা, অদক্ষতার অভিযোগও রয়েছে দু’জনের বিরুদ্ধে।

তাছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকেও মানতে পারছে না একটি পক্ষ। তারা প্রকাশ্যেই বিরোধিতা করছে। কেন্দ্রের নামে কর্মসূচি পালনের পোস্টার করার পরেও বিতর্ক উঠার পর সেটা হয়নি। আর কর্মসূচির দায় দায়িত্ব অস্বীকারও করা হয়েছে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে।