মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক (বিসিবি) লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে তেজগাঁওয়ের মনিপুরী পাড়ার বাসা থেকে তাকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় তার বাড়িতে বিপুল মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। তবে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির জন্যই তাকে আটক করা হয়।জানা যায় ক্যাসিনো থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন।এসব টাকার একটি অংশ তিনি অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাংকে জমা রেখেছেন। বর্তমানে ওই দুই ব্যাংকে রাখা টাকার পরিমাণ ৪১ কোটি
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-২ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।
র‌্যাব জানায়, কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা এ কে এম মমিনুল হক সাঈদের নেতৃত্বেই মোহামেডান ক্লাবে চলত ক্যাসিনো ব্যবসা। ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে লোকমান সহায়তা করতেন তাকে। তাই সময়মতো পৌঁছে দেয়া হতো ক্যাসিনো থেকে অর্জিত টাকা।
আশিক বিল্লাল বলেন, আমরা লোকমান হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এরই মধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি স্বীকার করেছেন ক্যাসিনোর ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে ২১ লাখ টাকা পেতেন। সেই হিসেবে তিনি (লোকমান) প্রতিদিন ৭০ হাজার টাকা করে পেতেন। ক্যাসিনোয় জড়িতরা যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
মোহামেডান ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনো ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন লোকমান। তার এই টাকাগুলো অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাংক, কমনওয়েলথ ও এএনজেড ব্যাংকে রাখা আছে।
র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ওই দুই ব্যাংকে তার ৪১ কোটি টাকা রয়েছে। তার ছেলের অস্ট্রেলিয়া পড়ার সুবাদে, তিনি মাঝে মাঝেই অস্ট্রেলিয়াতে যান।
রবিবার বিকালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিএমপি মতিঝিল বিভাগ। ক্লাব থেকে ১৬টি ডিজিটাল ক্যাসিনো বোর্ড, তাস খেলার বিপুল পরিমাণ সামগ্রী, জুয়া খেলার সামগ্রী এবং মাদকদ্রব্য (মদ, সিসা) উদ্ধার করা হয়। এদিন মোহামেডান ছাড়াও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, দিলকুশা ক্লাব ও আরামবাগ ক্লাবেও অভিযান চালানো হয়।
মোহামেডানে ক্যাসিনো চালাতেন ১৩ নেপালি। যাদের প্রত্যেকের ডলারে বেতন দেয়া হতো। মাসে যার পরিমাণ ছয় লাখেরও বেশি। জানা গেছে, এই ১৩ নেপালি নাগরিকের মাসিক ৬০০ ডলার (৫১ হাজার ৩০০ টাকা) থেকে শুরু করে ১ হাজার ডলার (৮৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ছিল। প্রতিমাসে এই ১৩ নেপালি নাগরিককে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকার বেতন দিত মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
র‍্যাব-২ অধিনায়ক আরও বলেন, আমরা প্রথম থেকেই লোকমানকে গ্রেফতার চেষ্টা করছিলাম। তিনি গ্রেফতার এড়াতে নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলায় অবস্থান করছিলেন। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি তিনি তার বাসায় এসেছেন। তখন আমরা বাসাটা ঘেরাও করি।
উল্লেখ্য, লোকমান আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।