বর্তমান অবৈধ সরকার জনগণের মধ্যে ইলিউশন তৈরি করার জন্য গত ১৮ সেপ্টেম্বর কথিত ক্যাসিনো, জুয়া ও মাদকবিরোধী শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছিল,অভিযান শুরুর পর থেকে ক্ষমতাসীনদের থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ার কারণে সরকারের লোকজন গলাবাজি শুরু করেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।আওয়ামী লীগ-যুবলীগের মাঝারি নেতাদের ঘরে ঘরে অবৈধ টাকার সিন্দুক। ভল্ট, টাকশাল, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, সোনাদানার খনি আবিষ্কার হওয়ার পর বড় নেতারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। একটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, গত ৯ বছর ধরে খেলনার আড়ালে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি হয়েছে জুয়া ও ক্যাসিনোর পণ্য। এ কাজে জড়িত ৬টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। আমদানিকারক আর এই সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষমতাসীনদের। বিএনপি তো ১২ বছর ক্ষমতায় নেই। তাহলে কীভাবে ক্যাসিনো চালু করল বিএনপি?
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন,অভিযান শুরুর পর থেকে তাদের নিজস্ব কিছু ভূঁইফোড় অনলাইন মিডিয়া ব্যবহার করে বিএনপির নামে, দেশনায়ক তারেক রহমানসহ নেতৃবৃন্দের নামে আজগুবে আষাঢ়ে গল্প প্রচার করছে। এটা সর্বজনবিদিত যে, মাত্র ৭-৮ বছর আগে এই ক্যাসিনো কালচার আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতারা বাংলাদেশে আমদানি করেছে।
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন,চারদিক থেকে যখন রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে অভিযানের দাবি জোরালো হচ্ছে, তখনই থামিয়ে দেয়া হয়েছে অভিযান। রাঘববোয়াল ও দুর্নীতির রথী মহারথীদের সুতার টানে এগোতে পারছে না অভিযান।সরকারের নেতারা বলছেন, সুশাসনের আমেজ দিতেই নাকি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। হাস্যকর এই চমক আর আমেজ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল চুনোপুঁটিদের অফিস-বাড়িতে সিন্দুকে শত শত কোটি টাকার স্টক। সহজেই অনুধাবন করা যাচ্ছে-রাঘববোয়ালদের কাছে রয়েছে রাষ্ট্রের লুট হওয়া লাখ কোটি টাকা। ’গতকাল খুলনায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, ’বর্তমান সরকারের আমলে গত ১০ বছরে দেশের ৯ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
সরকার দেশকে হরিলুটের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, টেলিভিশনের খবরে বলা হচ্ছে ক্যাসিনোর চেয়েও বড় দুর্নীতি হয় পরিবহন সেক্টরে। কেবল রাজধানীতেই প্রতিদিন ১০-১২ কোটি টাকার চাঁদা ওঠে। অথচ সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাসীন নেতা ধরাছোঁয়ার বাইরে।তাই দুর্নীতি, মাদক, জুয়া ও কালোটাকার মালিকদের বিরুদ্ধে কম্বিং অপারেশন চালাতে চাইলে বিনাভোটের অবৈধ দুর্নীতিবাজ সরকার যদি মাথার ওপর বসে থাকে, তা হলে সেটি জনগণের কাছে নাটক ছাড়া অন্যকিছু মনে হবে না।
আওয়ামী লীগ নেতাদের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, মতিয়া চৌধুরী একজন সিনিয়র রাজনীতিক, তারপরও আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, তিনি ’বস্তির কর্মীর’ মতো কথা বলছেন।
এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহামুদেরও সমালোচনা করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, আপনাদের গায়ের পোশাকটি দলীয় পোশাক নয়। এটার সম্মান রক্ষা করুন। আওয়ামী লীগের কাছে বিশ্বস্ত হওয়ার দরকার নেই। রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থাকুন। জনগণের ভালোবাসা অর্জন করুন। এক পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল আমিন যেভাবে পোশাকের মর্যাদা রক্ষা করেছেন, তার কাছ থেকেও আপনাদের অনেক কিছু শেখার আছে।

২০০৬ সাল থেকে বিএনপি ক্ষমতায় নেই, ক্যাসিনো যদি বিএনপি শুরু করে তাহলে ১৩ বছর সেটি চালু রাখলেন কেন? বন্ধ করলেন না কেন? সে সময়ের গণমাধ্যমের কোথাও কি তারা ক্যাসিনোর কথা প্রকাশ করেছিলেন? সব সাংবাদিক তো আর বিএনপি করতেন না। আওয়ামী লীগের মালিকানায় অনেক সংবাদপত্র ছিল। কোথাও তো একটি শব্দ পাওয়া যায়নি- বিএনপি আমলে বিএনপি নেতারা ক্যাসিনোর সঙ্গে যুক্ত ছিল। যখন মুখোশ খুলে গেছে তখন সেটি ঢাকতে তথ্যমন্ত্রীরা স্বভাবসুলবভাবে মানুষের মধ্যে বিরক্ত উদ্রেককারী ডাহা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।