সাধারন্ত সড়ক পথে অধিক দূর্ঘটনার কারণ হিসিবে দেখা গেছে মানুষের অসচেতনতা। চিন্তা ভাবনা না করে যানবাহন চালানোর কারণে এ দূর্ঘটনার কবলে পড়ছে যাত্রীরাসহ পথচারীরাও। তাই এ ধরনের দূর্ঘটনার কবলে পড়ে আর কারও জীবন যাতে না যায় সেজন্য বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নতুন সড়ক আইন তৈরি করেছে। সরকার ভেবেছিল নতুন আইনের কারণে হয়তো মানুষ আগের থেকে যানবাহন চালানোতে আরও সচেতন হবে। কিন্তু না, তারা রীতিমত এ আইন না মানার কারন জানিয়ে যাচ্ছেন।
তবে এদিকে নতুন সড়ক পরিবহন আইনের বিরোধিতায় অঘোষিত ধর্মঘটে ব্যাপক জনভোগান্তির পরও তাদের উপর কঠোর না হওয়াটাকে বাস্তবসম্মত বলেই মনে করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সোমবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে নতুন আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে সরকার পিছু হটল কিনা তা জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, "এখানে পিছু হটার বিষয় নেই, আইনি অবস্থান রেখেই সহনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে। ধর্মঘট হলে কি হত বলুন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি বলতে পারি, পুলিশ দিয়ে ওদের পিটাও, এটা কি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হত?"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে গত বুধবার রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে ট্রাক ও কভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকরা।

নতুন আইনের ১৬টি ধারার মধ্যে ৯টি ধারায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আপত্তি আছে। নতুন আইনের যেসব ধারায় আপত্তি রয়েছে, সে সব বিষয় সুপারিশসহ সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল জানিয়েছিলেন।

মালিক-শ্রমিকদের আপত্তিগুলোর সব সমাধান করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন,"স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম, আমার সাথে আলোচনা করেই নিয়েছিলেন। তারা যে দাবি জানিয়েছে এগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা যাচাই বাছাই করে দেখবো, এগুলো সময়ে প্রয়োজন।

"এ মুহূর্তে আমার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়, কারণ আইনটি পার্লামেন্টে পাশ হয়েছে। তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিষয়টা আলাপ করব।"

যে দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, "এগুলো যতটা সহনীয় ভাবে দেখা যায় আমরা দেখব। যখন একটা অচলাবস্থা তৈরি হয় আপনারা বলেন দেশে ভোগান্তিতে আছে ট্রাক লরি ভ্যানের জন্য বন্ধ হয়ে যায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। বাস্তবতার আলোকে রয়ে সয়ে চলতে হবে।

"অ্যাগ্রেসিভ একটা মুড নিলাম, রেডিক্যাল একটা মুড নিলাম কিন্তু এর বাস্তবতা তো ভিন্ন, আইনটাও যেন থাকে এবং এর প্রয়োজগত দিকটা যতটা সম্ভব সহনীয় পর্যায়ে রাখা, বিধিগুলো হয়ে গেছে আরো অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে আশা করি সমস্যা হবে না।"

আইন সংসদে পাশ করা পরও কার্য‌্যকর করা যাচ্ছে না কেন বা সরকার জিম্মি হয়ে পড়েছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, "কারো কাছে কেউ জিম্মি না, দুই দিনের অবস্থা তো আপনারা বিচার করে দেখেন। মিডিয়া সরকারের আইনের পক্ষে ছিল।

"কিন্তু এক সপ্তাহ চলে গেলে সরকার কেন সমঝোতা করছে না কেন বলতো, এটা আমার অভিজ্ঞতা। দেশে যখন পণ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে অচল অবস্থা কি হয়ে যাবে, আমরা হট এন্ড কুল ব্লো করে এগিয় যেতে হবে, আইনের প্রশ্নে কোন কমপ্রোমাইজ করিনি।

পেঁয়াজের মূল্যের জন্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন,"সরকার চুপ করে বসে নেই। আশা করে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।"

ভারতে থেকে বাংলাদেশে ’পুশব্যাক করার’ জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন,"তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার বলে আসছে এনআরসির কারণে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। বিষয়টা আমরা পর‌্যবেক্ষন করছি। বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় আসলে উদ্বেগ তো থাকবেই, প্রতিটিা সংকট তো মোবাবেলা করে আসছি, সাময়িক অস্বস্তির কারণ হলেও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে।"

যেহেতু সড়ক দূর্ঘটনা বর্তমান সমাজে একটি অভিশাপের কারন হয়ে দাড়িয়েছে, সেহেতু সবারই উচিত সড়কের এই নতুন আইন মেনে নেওয়া। আর তা না হলে এ দূর্ঘটনা কোনো ভাবেই কমবে না। এ দেশ আমাদের সবার। তাই দেশকে ভালো রাখার দায়িত্বও আমাদের সবার।