বাংলাদেশের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও লেখক এবং বাংলাদেশ সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যিনি রাজনীতি নিয়েই জীবনের বেশির ভাগ সময় পার করেছেন। যার হাতে ছিল এক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিচার ব্যবস্থা, কিন্তু আজ সেই আবুল মাল আবদুল মুহিতই এখন জীবনের সব থেকে খারাপ সময় পার করছেন। নিজেকে বেকার মনে করেই দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন তিনি। তাই একাকীত্ব কাটিয়ে উঠতে কাজ খুঁজছেন সাহিত্যরসিক হিসেবে খ্যাত আওয়ামী লীগ সরকারের গত দুই মেয়াদের এই অর্থমন্ত্রী।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে অবসরের ঘোষণা দেন মুহিত। নিজের নির্বাচনী এলাকা সিলেট-১ (সিলেট মহানগর ও সদর) আসনটি ছেড়ে দেন ছোটভাই এ কে আবদুল মোমনকে। বড়ভাইয়ের সেই আসনে বিজিত মোমেন চলতি মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

অবসরের ঘোষণার সময় মুহিত বলেছিলেন, বাকি দিনগুলি বই পড়ে লেখালেখি করেই কাটাতে চান তিনি। একসময় যে মানুষটির সময় জুটতো না মোটেই, তার এখন সময় কাটছে নিস্তরঙ্গ। তাই সাবেক অর্থমন্ত্রী এখন একাকিত্ব কাটিয়ে উঠতে চাইছেন। কাজ খুঁজছেন তিনি। এমনটাই জানা গেছে তার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলাপে।

মুহিতের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, কাজপাগল মুহিতের দিন কেটেছে নানা ব্যস্ততায়। যখনই যে পদে দায়িত্ব পেয়েছেন, সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু অবসরে তিনি অনেকটাই এখন একা হয়ে পড়েছেন। সারাদিন শুয়ে, বসে কিংবা বই পড়ে সময় কাটান। নিত্য এই কাজ দিনকে দিন একঘেয়ে হয়ে আসছে। তাই তিনি চাইছেন বাইরের কোনো কাজে যুক্ত হতে।

সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসেবে মুহিত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে স্পষ্ট কথাবার্তার জন্য গণমাধ্যমে প্রায়ই আলোচনায় আসতেন। এ বিষয়টি তাকে মন্ত্রিসভার অন্যদের চেয়ে স্বাতন্ত্র্য পরিচয় এনে দিয়েছিল। ইংরেজি সাহিত্যের অনুরাগী মুহিত ডাক পেলে ছুটে যেতেন এ ধরণের যে কোনো অনুষ্ঠানে।

আবুল মাল আবদুল মুহিতের কর্মজীবন শুরু হয় আমলার চাকরিতে। বিভিন্ন সময় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে ১৯৭১ সালে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন মুহিত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেন। গত শতকের একেবারে শেষ দিকে নাম লেখান রাজনীতিতে।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করেন মুহিত। তবে প্রথমবার ভালো করতে পারেননি। হেরে যান আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপি নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের কাছে। পরেরবার ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাইফুর রহমানকেই পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুহিত। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও জয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন তিনি। দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন। আবারও দায়িত্ব নেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের। ওই মেয়াদের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে ইস্তফার ঘোষণা দেন মুহিত।

এক সময়ে তিনি এতোটাই ব্যস্থ ছিলেন যে ১ মিনিট বসে থাকার সময় পাননি। আর সে মানুষটি এখন নিরবে হয়ে ঘরের কোনে দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। তাই জীবনটাকে এ ভাবে অবহেলায় না কাটিয়ে দেওয়ার জন্য কাজে যুক্ত হতে চাচ্ছেন তিনি। হয়তো জীবনের বাকি সময়টা তিনি এভাবেই কাটিয়ে দিতে চান।