বলিউডের খুবই স্বনামধন্য জনপ্রিয় অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা। তিনি ভালোও করেই জানেন কিভাবে প্রতিটা দর্শকে মাতিয়ে রাখতে হয়। কিভাবে তাদের মনের মাঝে জায়গা করে নিতে হয় তার থেকে ভালো মনে হয় আর কেউ পারবে না। ২০০৮ সালে ’রাবনে বানাদি জরি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। এর পরপরই তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোফলির সাথে বিয়ের কাজ সেড়ে ফেলেন তিনি।
এদিকে সম্প্রতি আনুশকা শর্মাকে জড়িয়ে কয়েক মাস আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচকদের সমালোচনা করেছিলেন দেশের সাবেক উইকেটকিপার ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার। বিষয়টি নিয়ে জল অনেক দূর গড়ালেও বিরাট কোহলি এতদিন চুপ ছিলেন। অবশেষে মৌনতা ভেঙে এই বিষয়ে মুখ খুললেন ভারত অধিনায়ক। স্ত্রী আনুশকা এবং বিসিসিআই নির্বাচকদের হয়েই কথা বলেছেন তিনি। যদিও বিষয়টি নিয়ে আগেই ক্ষমা চেয়েছিলেন ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার।

ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্ত্রী আনুশকার সমর্থনে বিরাট বলেছেন, ’বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দেখার জন্য আনুশকা এসেছিল। ওই একটা ম্যাচের জন্যই ও এসেছিল। ফ্যামিলি বক্সে বসে খেলা দেখেছিল। নির্বাচকদের বক্সে বসেনি ও। এমনকি সেই সময়ে কোনো নির্বাচক ছিলেনই না সেখানে।’

কয়েক দিন আগে ইঞ্জিনিয়ারের মন্তব্যে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটে। তিনি বলেছিলেন, ’আমাদের তো মিকি মাউস সিলেকশন কমিটি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরাট কোহলির প্রভাব বিশাল। বিশ্বকাপ চলাকালীন নির্বাচকদের দেখেছি ভারতের ব্লেজার পরে ঘোরাঘুরি করছে। আনুশকা শর্মাকে চা এগিয়ে দিতেই ওরা ব্যস্ত ছিল। ওদের কাউকেই আমি চিনতাম না। পরে জানতে পারি ওরা নির্বাচক।’

খ্যাতিমান এই ক্রিকেটারের এমন মন্তব্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্জে ওঠেন আনুশকা। ইঞ্জিনিয়ারের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে দীর্ঘ এক পোস্ট করেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ফারুখ ইঞ্জিনিয়ারের দাবি প্রসঙ্গে আনুশকা লিখেছিলেন, ’আমাকে নির্বাচকরা চা এগিয়ে দিতে ব্যস্ত ছিলেন, এই তথ্য একদমই মিথ্যা। আমি বিশ্বকাপের একটা ম্যাচই দেখতে গিয়েছিলাম। তাও আবার ফ্যামিলি বক্সে বসেছিলাম। নির্বাচকদের বক্সে বসিনি।’

এরপর ইঞ্জিনিয়ার ক্ষমা চেয়ে নেন আনুশকার কাছে। বিষয়টা ধামাচাপাই পড়ে গিয়েছিল। কোহলি সেই সময়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। তবে এবার ইঞ্জিনিয়ারের নাম না নিয়ে কোহলি বলেছেন, ’নির্বাচকদের ব্যাপারে যদি কিছু বলার থাকে, তাহলে যে কেউ বলতেই পারেন। কিন্তু আনুশকার নাম জড়ানো হল কেন? একটা মিথ্যাকেই যদি বারবার বলা হয়, তা হলে সেটাকে সত্যি বলেই ধরে নেওয়া হয়। তাই মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি। একটা বিষয়কে আরও বেশি মশলাদার করার জন্য মানুষ কেন আনুশকার নাম নেয়, তা আমার জানা নেই। সফট টার্গেট বলেই হয়তো সবাই আনুশকাকে জড়ায়।’

বিরাট কোহলি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, আমি অনেক দিন চুপ করে থেকে দেখেছি কি হয়, কিন্তু আর না এবার আমাকে কথা বলতে হবেই। আমি কিছুতেই বুঝতে পারলাম না যে কি কারণে আনুশকাকে জড়ানো হয়েছে। আপনাদের উচিত হয়নি তাকে এ বিষয়ে জড়ানো। আপনারা যদি একের পর এক এমন মিথ্যা কথা বলতে থাকলে তো মানুষ একদিন না একদিন এটা বিশ্বাস করে নিবে।