স্বৈরতন্ত্র রুখে গনতন্ত্রের পক্ষে কাজ করায় স্বীকৃতি পেলেন তারা

২০২২ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারটি একজন ব্যক্তি এবং দুটি সংস্থার কাছে গিয়েছিল যারা অক্লান্তভাবে স্বৈরাচার এবং অধিকারমুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল — বেলারুশিয়ান মানবাধিকার কর্মী আইনজীবী আলেস বিয়াল্যাটস্কি এবং যথাক্রমে রাশিয়া ও ইউক্রেনের দুটি মানবাধিকার সংস্থা, মেমোরিয়াল এবং সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ। প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি দেশই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান বেরিট রাইস অ্যান্ডারসেন বলেন, শান্তি পুরস্কার বিজয়ীরা নিজ নিজ দেশে সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন। তারা বছরের পর বছর ধরে শাসকদের যুক্তিযুক্ত সমালোচনা করে আসছে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে।

যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নথিপত্রে তারা অসাধারণ শ্রম ও প্রচেষ্টা দেখিয়েছে। তারা সুশীল সমাজকে শান্তি ও গণতন্ত্রের পথ দেখিয়েছে।

বেলারুশিয়ান মানবাধিকার সংস্থা ভিয়াসনা আলেস বিয়াল্যাটস্কি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় তিনি বারবার সরকারকে অসন্তুষ্ট করেছেন। বিয়াল্যাটস্কি ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কর ফাঁকির জন্য কারাগারে ছিলেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পরে ২০২০ সালে বিয়ালাতস্কিকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি এখনও বিনা বিচারে বন্দী।

নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটি বলেছে যে বিলিয়াতস্কি তার জীবন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং তার দেশে শান্তির পথ প্রশস্ত করার জন্য উৎসর্গ করেছেন।

মেমোরিয়াল সংগঠনটি ১৯৮৭ সালে প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের মানবাধিকার কর্মীদের একটি গ্রুপ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সংস্থাটি সোভিয়েত এবং পরে রাশিয়ায় নিহত, নির্যাতিত ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করেছিল। প্রাক্তন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আন্দ্রেই শাখারভ এবং মানবাধিকার আইনজীবী স্বেতলানা গানুশকিনা সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন। ২০২১ সালে, মস্কোর সুপ্রিম কোর্ট মেমোরিয়াল নিষিদ্ধ করার এবং এর সমস্ত শাখা বন্ধ করার আদেশ দেয়।

ইউক্রেনে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে কিয়েভে ২০০৭ সালে সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।সংস্থাটি ইউক্রেনকে একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করার জন্য সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। সংস্থাটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দেশটির বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধাপরাধ চিহ্নিত এবং নথিভুক্ত করার জন্য কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *