কখনো নাম বাতলে দিতেন ’সাইক্লোন’, কখনও বা দিতেন ’ভূমিকম্প’, কিংবা কখনো ’পুরাই হ’ট’ নামের আকর্ষনীয় অফার দিয়ে মনকে বিগ’ড়ে দিতো ব্যবসায়িক প্লানাররা। পানির দামে পণ্য বিক্রির সব জা’দুর মতো আয়োজন! মোহাম্মদ রাসেল সেই ব্যক্তি যার মস্তিষ্ক প্রসূত এই ’লো’ভের চেরাগ’ দ্বারা বি’/দ্ধ হয়েছে মানুষ, আর তাদেরকে বো’কা বানানো হয়েছে দারুনভাবে। রাসেল-ই হলেন ইভ্যালির সেই সময়ের জনপ্রিয় অনলাইন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ’জনক’। তিনি তার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি নিজেই সিইও। শামীমা নাসরিন তার এই ’আলো-অন্ধকার’ প্রজেক্টের একজন ছায়া সঙ্গী। যিনি তার একজন আদ্যপান্ত জীবনসঙ্গীও। পদটি তিনি যেটা পেয়েছেন সেটা কতার স্বামীর চেয়ে অনেক বড়। চেয়ারম্যান! এখন তারা দুজনই অর্থ আ’ত্মসা’তের মা’/ম’/লায় রয়েছেন কা’/রা’গা’/রে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display

ইভ্যালির পিল -এ রাজকীয় ডিসকাউন্ট এবং লাভজনক ক্যাশব্যাক অফারের একটি তোড়া দেখে লক্ষ লক্ষ মানুষ হোঁচট খেয়েছে। রাসেল সাধারণ মানুষকে প্র’/তা’/রণার সুই-সুতায় গেঁ’’থেছেন শতভাগ দক্ষতার সাথে। এখন সেই গ্রাহকরা হা-পীতিশ করছেন। কিছু গ্রাহক বলছেন, ’রাসেলকে ছেড়ে দাও’। আবার অনেক ক্ষু’/ব্ধ গ্রাহক দা’বি করেন, "রাসেলকে কা’/রা’গা’/রে রাখুন।"

এদিকে এরই মধ্যে রাসেলের ছলাকলা মানুষের মুখে মুখে। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সময়োপযোগী উদ্যোগের কারণে প্র’/তা’র’/ণার জা’লের কথা জানা হয়ে গেছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশবিভুঁইয়ে। অনলাইন ক্রেতাদের মধ্যে অল্প সময়ে আ’লো/ড়ন তুললেও প্রতিষ্ঠানটি এখন উঠেছে সমা’লোচনার চূড়ায়।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রাসেলের হাত ধরে জন্ম ইভ্যালির। এরপর রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ভাড়ায় একটি অফিস ও কাস্টমার কেয়ার স্থাপন করেন। এ ছাড়া ভাড়া করা জায়গায় আমিন বাজার ও সাভারে চালু করেন দুটি ওয়্যারহাউস। ইভ্যালির বর্তমান গ্রাহক ৪৪ লাখেরও বেশি। কম্পানিটি এ পর্যন্ত তিন হাজার ৭০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীর কাছে এই প্রতিষ্ঠানের দায় ৫৪৩ কোটি টাকা। দুই লাখের বেশি ক্রেতা পাবে ৩১১ কোটি টাকা। ব্যবসায়ীরা পাবেন ২০৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া ইভ্যালির মোট সম্পদ আছে ১২১ কোটি টাকা, যা দিয়ে মাত্র ২২ শতাংশ দায় মেটানো সম্ভব। শুরু থেকেই ইভ্যালিকে একটি ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরির পরিকল্পনা ছিল রাসেলের। পরে সুযোগ বুঝে দেনাসহ কোনো প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কম্পানির কাছে বিক্রি করে লভ্যাংশ নেওয়ার ছক কষছিলেন তিনি। এ জন্য রাসেল বিভিন্ন দেশ ভ্রমণও করেছেন।

ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং তাঁর স্বামী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল পদাধিকারবলে নিজেরা মাসিক পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা বেতন নিতেন। তাঁরা কম্পানির টাকায় ব্যক্তিগত দুটি দামি গাড়ি (রেঞ্চ রোভার ও অডি) কিনে ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া কম্পানিটির রয়েছে প্রায় ৩০টি গাড়ি। সাভারে ব্যক্তি পর্যায়ে রাসেলের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমিসহ অন্যান্য সম্পদও আছে।

কে এই রাসেল? : রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন মোহাম্মদ রাসেল। এরপর পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতকোত্তর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। লেখাপড়া শেষে ২০১১ সালে যোগ দেন ঢাকা ব্যাংকে। চাকরির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে করেন ইভিনিং এমবিএ। ছয় বছর পর ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে অনলাইনে পণ্য বেচাকেনার ব্যবসায় মজেন।

২০১৬ সালে প্রথমে অনলাইনে ডায়াপার বিক্রি দিয়ে যাত্রা শুরু রাসেলের। ২০১৭ সালে এই ব্যবসা করতে গিয়ে বড় একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার চিন্তা মাথায় আসে তাঁর। সেই চিন্তা থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন দেশীয় ই-কমার্স কম্পানি ’ইভ্যালি’। এই খাতে স্বল্প সময়ে সবাইকে ভ’ড়কে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। বিশাল অফার, ছাড়ের ছড়াছড়ি আর ক্যাশব্যাকের টোপ ফেলে ক্রেতা টানার কৌশল নিয়ে সফলতা পায় ইভ্যালি। এখন উল্টো গ্রাহক ভো’/গা’ন্তির চূড়ায় উঠেছে দেশীয় এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি।

ইভ্যালির সাইক্লোন অফার (বাজারদরের অর্ধেক মূল্যে পণ্য বিক্রয়), ক্যাশব্যাক অফার (দরের ৫০-১৫০% ক্যাশব্যাক অফার), আর্থকোয়েক অফা’রে প্রলুব্ধ হয় সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া বিভিন্ন উৎসবকেন্দ্রিক জমজমাট বৈশাখী, ঈদ অফার, টি-১০, টি-৫ ও টি-৩ অফার তো ছিলই। ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি বাড়াতে বাজারে চাহিদা আছে এমন পণ্যকে বেছে নেওয়া হতো। লোভনীয় ছাড়ের ফলে যার ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়ে যেত। ফলে ক্রমেই প্রতিষ্ঠানটির দায় বাড়তে থাকে।

এদিকে, ইভালি মোটরসাইকেল, গাড়ি, মোবাইল, হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্রের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উচ্চমূল্যে থাকা সত্বেও সেগুলোর অকল্পনীয় লাভজনক ছাড় দেয়। প্রতিষ্ঠানটির আরম্ভকালেই, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প ইত্যাদি অফারের নাম দিয়ে, তারা ক্রেতাদের শতভাগ কিংবা এমনকি ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের টো’প দিয়ে তাদেরকে প্রলো’ভনে ফেলে। ইভালির ব্যবসার এই ধরনের লো’ভনীয় অফারের কৌশল মানুষের মাঝে একধরনের আ’লো/ড়ন তোলে সেই সাথে অনেক সমা’লোচনাও তৈরী করে।

ফলস্বরূপ, তার কার্যক্রম আরম্ভ হওয়ার পর থেকে দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, কোম্পানিটি প্রায় ১০০০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করে ফেলে যেটা একটি ইতিবাচক দিক ছিল গ্রাহকদের টানতে। কিন্তু কোম্পানির যে পরিমান পরিশোধিত মূলধন ছিল সেটাও ছিল অনেক াওনেক কম মাত্র 50 হাজার টাকা। ব্যবসা প্রসারের সাথে সাথে তিন বছর পার করা এই কোম্পানির বি’/রু’দ্ধে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নিকট একের পর এক অভি’যোগ পড়তে শুরু করে।











আরো পড়ুন

Error: No articles to display