গত বছর থেকেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে অভিযোগ উঠে আসে যে কিছু অসাধু ব্যক্তিরা নানা রকম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এমনকি সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেয় এমন অভিযোগও উঠে আসে। এবার এক হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি তার কর্মস্থলে যোগদান করার পর থেকে চুরি করে আসেন। এভাবে তিনি লাখ লাখ টাকা সড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। অবশেষে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতানোর সময় এই হিসাবরক্ষক ধরা পড়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ পেল।

নড়াইল সদর হাসপাতালের বিভিন্ন খাত থেকে ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকির বিরুদ্ধে। গতকাল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নিজেই ব্যাংকে গিয়ে এ ঘটনা জানতে পারেন। পরে তাকে তিন দিনের মধ্যে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত হিসাবরক্ষককে পরবর্তীতে ইউজার ফি জমা দেওয়ার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহান আরা খানম লাকি ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই নড়াইল সদর হাসপাতালে হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালের রোগী ভর্তি ফি, অপারেশান থিয়েটার, বহিঃ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা ফি,এক্স-রে, প্যাথলজি, আলট্রাসনো ও ব্লাড ব্যাংক, কভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ ফি, অ্যাম্বুলেন্স, ইসিজি, কেবিন ও পেয়িং বেড ফিসহ বিভিন্ন খাত থেকে পাওয়া আয় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের আয় চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় জমা দিতে হয়। যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু বর্তমান হিসাবরক্ষক হাসপাতালে যোগদানের পর কোনো অর্থ জমা দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, হিসাবরক্ষক সদর হাসপাতালে যোগদানের পর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের ৪৫ লাখ টাকা এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ৯ মাসের ২৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেননি। তবে তিনি সোনালী ব্যাংকে এসব অর্থ জমা দেওয়ার ভুয়া চালান দেখিয়েছেন।

অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকি বলেন, কিছু টাকা জমা দিতে বাকি আছে তা এক সপ্তাহের মধ্যে দিয়ে দেব। তবে কত টাকা বাকি রয়েছে তা বলতে পারেননি। এর বেশি আর কিছু বলতে চাননি।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুর শাকুর বলেন, ইউজার ফি সঠিকভাবে ব্যাংকে জমা পড়ছে কি-না তা যাচাই করার জন্য গতকাল মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখি গত ২১ মাসে ৭০ লাখ টাকার এক টাকাও জমা পড়েনি। হিসাবরক্ষকের কাছ থেকে ব্যাংকের সই ও সিল স্বাক্ষরিত চালানগুলো ভুল।

নড়াইল সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ম্যানেজার মো. আবু সেলিম বলেন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হাসপাতাল থেকে যেসব চালান নিয়ে ব্যাংকে এসেছিলেন তার কোনোটিই ব্যাংকে জমা পড়েনি। সূত্র: কালের কন্ঠ


এদিকে, এই হিসাবরক্ষক কে নিয়ে বর্তমানে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। আর তার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই নানা রকম অভিযোগ উঠে আসে। এই হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ উঠে এসেছে তা বর্তমানে আরও ভাএ ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই হিসাবরক্ষক এর বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ উঠেছে তা সম্পর্কে এখনো তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন

বিল গেটসের কৃষিজমির মোট পরিমাণ কত, উঠে এলো প্রকাশ্যে

15 June, 2021 | Hits:201

গোটা পৃথিবীর মধ্যে ধনী ব্যক্তিদের ভিতরে অন্যতম একজন বিল গেটস। সমগ্র বিশ্ব জুড়ে তার ব্যপক পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে। এম...

অবশেষে জামিন পেলেন নিপুণ রায় চৌধুরী

16 June, 2021 | Hits:89

নিপুণ রায় চৌধুরী বাংলাদেশের এক সুপরিচিত এবং চেনা মুখ। তিনি মূলত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রা...

যোগদানের পর থেকেই চুরি শুরু ৭০ লাখে এসে ধরা হিসাবরক্ষক জাহান আরা
Logo
Print

জাতীয় Hits: 2315

 

গত বছর থেকেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে অভিযোগ উঠে আসে যে কিছু অসাধু ব্যক্তিরা নানা রকম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এমনকি সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেয় এমন অভিযোগও উঠে আসে। এবার এক হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি তার কর্মস্থলে যোগদান করার পর থেকে চুরি করে আসেন। এভাবে তিনি লাখ লাখ টাকা সড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। অবশেষে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতানোর সময় এই হিসাবরক্ষক ধরা পড়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ পেল।

নড়াইল সদর হাসপাতালের বিভিন্ন খাত থেকে ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকির বিরুদ্ধে। গতকাল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নিজেই ব্যাংকে গিয়ে এ ঘটনা জানতে পারেন। পরে তাকে তিন দিনের মধ্যে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত হিসাবরক্ষককে পরবর্তীতে ইউজার ফি জমা দেওয়ার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহান আরা খানম লাকি ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই নড়াইল সদর হাসপাতালে হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালের রোগী ভর্তি ফি, অপারেশান থিয়েটার, বহিঃ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা ফি,এক্স-রে, প্যাথলজি, আলট্রাসনো ও ব্লাড ব্যাংক, কভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ ফি, অ্যাম্বুলেন্স, ইসিজি, কেবিন ও পেয়িং বেড ফিসহ বিভিন্ন খাত থেকে পাওয়া আয় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের আয় চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় জমা দিতে হয়। যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু বর্তমান হিসাবরক্ষক হাসপাতালে যোগদানের পর কোনো অর্থ জমা দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, হিসাবরক্ষক সদর হাসপাতালে যোগদানের পর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের ৪৫ লাখ টাকা এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ৯ মাসের ২৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেননি। তবে তিনি সোনালী ব্যাংকে এসব অর্থ জমা দেওয়ার ভুয়া চালান দেখিয়েছেন।

অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকি বলেন, কিছু টাকা জমা দিতে বাকি আছে তা এক সপ্তাহের মধ্যে দিয়ে দেব। তবে কত টাকা বাকি রয়েছে তা বলতে পারেননি। এর বেশি আর কিছু বলতে চাননি।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুর শাকুর বলেন, ইউজার ফি সঠিকভাবে ব্যাংকে জমা পড়ছে কি-না তা যাচাই করার জন্য গতকাল মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখি গত ২১ মাসে ৭০ লাখ টাকার এক টাকাও জমা পড়েনি। হিসাবরক্ষকের কাছ থেকে ব্যাংকের সই ও সিল স্বাক্ষরিত চালানগুলো ভুল।

নড়াইল সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ম্যানেজার মো. আবু সেলিম বলেন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হাসপাতাল থেকে যেসব চালান নিয়ে ব্যাংকে এসেছিলেন তার কোনোটিই ব্যাংকে জমা পড়েনি। সূত্র: কালের কন্ঠ


এদিকে, এই হিসাবরক্ষক কে নিয়ে বর্তমানে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। আর তার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই নানা রকম অভিযোগ উঠে আসে। এই হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ উঠে এসেছে তা বর্তমানে আরও ভাএ ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই হিসাবরক্ষক এর বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ উঠেছে তা সম্পর্কে এখনো তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Template Design © Joomla Templates | GavickPro. All rights reserved.